দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ৩নং শতগ্রাম ইউনিয়নের কাশিমনগর এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পে সরকারি ঘর কেনা-বেচা বা অবৈধ কর্মকাণ্ড এবং চলমান ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের দুই দিনের মাথায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে আসেন দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো: মনজুরুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে উপজেলার ৩নং শতগ্রাম ইউনিয়নের কাশিমনগর এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চলমান অভিযোগ ও প্রকল্পের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমা খাতুন এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর বর্মন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বেচা-কেনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরো বলেন, ভূমিহীন ও গৃহহীনসহ দেশের প্রতিটি নাগরিকের পাশে এই সরকার সবসময় থাকবে। এসব ঘর কোনোভাবেই ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে কেনা-বেচা করার সুযোগ নেই এবং তা দণ্ডনীয় অপরাধ। এসবের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি এলাকার সকল সচেতন ব্যক্তিদের সোচ্চার হতে হবে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমা খাতুন বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের সরকারি ঘর কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। নির্ধারিত উপকারভোগীদের পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যেই এসব ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ঘর কেনা-বেচা বা অবৈধভাবে হস্তান্তরের সাথে যারা জরিত তাদের দ্রুতই আমরা আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম নিচ্ছি।
উল্লেখ্য, কাশিমনগর আশ্রয়ণ প্রকল্পে সরকারি ঘর অবৈধভাবে কেনা-বেচার অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কয়েকটি ঘর মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে হাতবদল হয়েছে এবং আরও কিছু ঘর বিক্রির চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় যুব সমাজ ও সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
উক্ত আলোচনায় সহযোগী ৩নং শতগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মতামত