কয়েকদিনের ভারীবৃষ্টিপাতে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার শিবরামপুর, পলাশবাড়ী, শতগ্রাম পাল্টাপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে গ্রামাঞলে দেখা মিলেছে গ্রামবাংলার চিরচেনা এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। কৃষকের হালচাষের পেছনে ছোটাছুটি করে মাছ ধরতে ব্যস্ত সময় পার করছে গ্রামের শিশুরা।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে এই আনন্দঘন চিত্র দেখতে পাওয়া যায়। প্রযুক্তিপ্রধান এই সময়ে এমন দৃশ্য যেন হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ শৈশবের স্মৃতিকে আবারও জীবন্ত করে তুলেছে।
সম্প্রতি কাজল গ্রামের বিভিন্ন কৃষিজমিতে দেখা যায়, কৃষকরা জমিতে ঐতিহ্যবাহী লাঙল-জোয়াল দিয়ে হালচাষ করছেন আর তাদের ঠিক পেছনেই হাতে ছোট জাল, পাত্র কিংবা পলিথিন নিয়ে ছুটছে একদল শিশু। হালের ফলা দিয়ে মাটি উল্টে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাদার ভেতর থেকে কই, শিং, মাগুর, টেংরা, পুঁটিসহ অন্যান্য দেশীয় ছোট মাছ ওপরে উঠে আসছে। আর শিশুরা পরম আনন্দে সেগুলো ধরে নিজেদের পাত্রে সংগ্রহ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মুজাহার আলীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষাকালে এই দৃশ্য গ্রামবাংলার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অংশ। আগে প্রায় প্রতিটি গ্রামেই এমন চেনা রূপ দেখা গেলেও আধুনিক কৃষিয়ন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং দেশীয় মাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এখন তা অনেকটাই বিরল হয়ে পড়েছে। তবে আধুনিকতার ভিড়েও মাঝে মধ্যে গ্রামীণ সমাজে এই ঐতিহ্য এখনো টিকে আছে।
মাছ ধরতে আসা শিশুদের মুখে ছিল উচ্ছ্বাসের হাসি। তাদের কাছে এটি কেবল মাছ ধরাই নয়, বরং আনন্দ, খেলাধুলা ও প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকার এক অনন্য অভিজ্ঞতা। একদিকে কৃষকের মাঠের কাজ, অন্যদিকে শিশুদের প্রাণবন্ত ছুটে চলা-সব মিলিয়ে গ্রামীণ জীবনের এক অপরূপ সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে বীরগঞ্জের এই নিভৃত পল্লীতে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, এমন দৃশ্য গ্রামীণ ঐতিহ্য, প্রকৃতিনির্ভর জীবনধারা এবং শৈশবের নির্মল আনন্দের প্রতীক। এই জাতীয় ঐতিহ্যগুলো সংরক্ষণে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসার পাশাপাশি দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক আবাস্থল রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
মতামত