মব সৃষ্টি করে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার নাড়াবাড়ী সালাফিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মো: জসিম উদ্দীনকে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় মাদ্রাসার সভাপতি ও সহকারী মৌলভীকে দ্রুত বিচারের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক।
গতকাল রোববার দুপুরে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী সুপারিনটেনডেন্ট মো: জসিম উদ্দিন। এ সময় মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার বেলাল হোসেন, শরিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২২শে আগষ্ট বর্তমান সভাপতি সুকৌশলে মব সৃষ্টি করে সুপার জসিম উদ্দীনকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেন। শুধুমাত্র কর্মচারী নিয়োগ বাণিজ্য করার জন্য। পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে বিষয়টি তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি সরেজমিনে তদন্ত করে তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করেন। সেখানে বলা হয়, সুপার সাহেবের উপর যে সমস্ত অভিযোগ আনা হয়েছে তার স্বপক্ষে কোন প্রমান নেই। পরে সুপার জসিম উদ্দীন জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে সুপারকে জোর পূর্বক পদত্যাগের বিষয়টি স্পষ্ট প্রমানিত হয় এবং সভাপতি ও সহকারী মৌলভী মিজানুর রহমানের অনেক নিয়ম বহির্ভূত কার্যকলাপ স্পষ্ট হয়।
শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্ত পূর্বক সুস্পষ্ট মতামত প্রদানের নির্দেশনা প্রদান করলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গত ১৭ মে মতামতসহ তদন্ত প্রতিবেদন চেয়ারম্যান বরাবর প্রদান করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে সুপারকে জোর পূর্বক পদত্যাগের বিষয়টি সুস্পষ্ট প্রমাণিত হয়।
উক্ত প্রতিবেদন যাচাই অন্তে দেখা যায় যে, সুপারিনটেনডেন্ট জসিম উদ্দীনকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। সভাপতি প্রায় দুই (২) বছরে প্রতিষ্ঠানটিতে অভ্যন্তরীন কলহ সৃষ্ট করে শিক্ষার্থীদের পড়া লেখা চরম ক্ষতি সাধন করেন, যা পুরন হবার নয়। প্রতিষ্ঠানটিতে ক্রমশ শিক্ষার্থীর ভর্তির হার কম হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ্য করা হয়, উক্ত প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ কুরবান আলী ও ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি সহকারী মৌলভী মোঃ মিজানুর রহমান, সহকারী মৌলভী একত্রে নিয়মবহির্ভূত ভাবে কোন যৌক্তিক কারণ ছাড়াই ভারপ্রাপ্ত সুপার মোঃ বেলাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। পরবর্তীতে সভাপতি নিয়মবহির্ভূতভাবে কমিটির সভার সিদ্ধান্ত ছাড়াই নিজেরা কার্যনির্বাহী প্রস্তুত করে সহকারী মৌলভী মোঃ মিজানুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব প্রদান করেন। জোর পূর্বক পদত্যাগের পর থেকে অভিযোগের সময় পর্যন্ত ভয়ভীতি প্রদর্শন করে প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হতে বাধা প্রদানসহ হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে বর্তমান সভাপতি মোঃ কোরবান আলী ও উক্ত প্রতিষ্ঠানের সহকারী মৌলভী (বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান প্রধান) মোঃ মিজানুর রহমান নিষেধ করেন। যাহার ভিডিও চিত্র প্রমানিত আছে।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি মোঃ কুরবান আলী ও সহকারী মৌলভী মোঃ মিজানুর রহমান দ্বয়ের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে শাস্তির দাবী জানান।
এব্যাপারে সভাপতি মোঃ কুরবান আলীর সাথে কথা বলা হলে তিনি জানান, আমি তাকে পদত্যাগ করাইনি। এলাকার লোকজন তার কাছে গিয়েছিলেন তার দুর্ণীতির বিষয়ে জানতে। তিনি নিজের ইচ্ছাতেই পদত্যাগ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
মতামত