ঘোড়াঘাট

ঘোড়াঘাটে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি থেকে সম্পদ সরানো গুরুতর ১১ অভিযোগ

প্রিন্ট
ঘোড়াঘাটে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি থেকে সম্পদ সরানো গুরুতর ১১ অভিযোগ

প্রকাশিত : ২৪ জুন ২০২৬, বিকাল ৩:১৩



দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বেলওয়া আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মাহমুদা খাতুনের বিরুদ্ধে অসদাচরণসহ ১১টি অনিয়ম অভিযোগ তুলেছেন একই বিদ্যালয়ের দুই সহকারী শিক্ষিকা। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তে নেমেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে সহকারী শিক্ষিকা লুৎফুর নাহার ও সিনথিয়া আফরিন বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম, আর্থিক অসঙ্গতি এবং সহকর্মীদের হয়রানির অভিযোগ উত্থাপন করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষের ফ্যান, সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল, ব্যাটারি ও পানির ট্যাংক সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি ও পঞ্চম শ্রেণির সনদপত্র দেওয়ার নামে অর্থ আদায়, জাতীয় দিবস উদযাপনের বরাদ্দ যথাযথভাবে ব্যয় না করা, টিফিন কর্মসূচিতে অনিয়ম, খাদ্যসামগ্রী বিতরণে অসঙ্গতি এবং শিক্ষণ উপকরণের সংকট সৃষ্টি করার অভিযোগও আনা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত সিদ্ধ ডিমের পরিবর্তে কাঁচা ডিম ও নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। একাধিকবার বিষয়গুলো জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি সাব-ক্লাস্টার প্রশিক্ষণকে কেন্দ্র করে জনপ্রতি আড়াই হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয়। নির্ধারিত অর্থ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে প্রধান শিক্ষিকা অসন্তোষ প্রকাশ করেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া গত ১১ জুন ক্লাস বিরতির সময় ফলাফল শিট পর্যালোচনারত দুই শিক্ষিকার একটি স্থিরচিত্র ধারণ করে প্রধান শিক্ষকদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ‘শ্রেণি পাঠদান বাদ দিয়ে অন্য রুমে গল্প চলছে’ শিরোনামে প্রচার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একইভাবে বিদ্যালয়ের মাঠে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা তদারকির সময় ধারণ করা একটি ভিডিও ‘ক্লাস বাদ দিয়ে আড্ডা চলছে’ শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।

সহকারী শিক্ষিকা লুৎফুন নাহার বলেন, “আমাদের নামে মিথ্যা ভিডিও ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছি।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মাহমুদা খাতুন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা। চুরি হওয়ার আশঙ্কায় বিদ্যালয়ের পানির ট্যাংক আমার বাসায় রাখা হয়েছে। আর ফ্যান, সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি মেরামতের জন্য মেকারের কাছে দেওয়া আছে।”

তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ইউপিইটিসি ইনস্ট্রাক্টর শাহিদুল ইসলাম জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে। বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত উভয় পক্ষের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন লিখিতভাবে শিক্ষা অফিসারে জমা দেওয়া হবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আফজাল হোসেন বলেন, “বেলওয়া আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগ তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”