পার্বতীপুর

দিনাজপুরে শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

প্রিন্ট
দিনাজপুরে শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

ছবি : নিহত শিক্ষক


প্রকাশিত : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৫৮

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে রাস্তার জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারামারিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনোরঞ্জন রায় নামে এক শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। 

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার ১ নম্বর বেলাইচণ্ডী ইউনিয়নের নয়া মোল্লাপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত মনোরঞ্জন রায় চিরিরবন্দর উপজেলার চক সুকদেবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও চিরিরবন্দর উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়নের সোনা পুকুর মাঝিপাড়া গ্রামের মৃত অসীম রায়ের ছেলে। 

পুলিশের দেয়া প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, নয়া মোল্লাপাড়া গ্রামের স্থানীয় মরহুম আজিজুল মাস্টারের বসতবাড়ি সংলগ্ন রাস্তা নিয়ে প্রতিবেশী আসাদুজ্জামান (৩২) গংদের সাথে পূর্ব থেকেই বিরোধ চলে আসছিল। রোববার দুপুরে ওই রাস্তার জায়গা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হলে একপর্যায়ে শিক্ষক মনোরঞ্জন মাস্টার বিরোধ মীমাংসা কিংবা পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় আসাদুজ্জামান ও তার সঙ্গীয় লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে মনোরঞ্জন মাস্টারের ওপর অতর্কিত চড়াও হয় এবং সজনে গাছের ডাল/লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতে পেয়ে তিনি পার্শ্ববর্তী ধানক্ষেতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।

ঘটনার পর, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পায় যে এক শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় আসাদুজ্জামান (৩২) নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। 

পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ জানান, ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থল থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ঘটনার পর এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা দেখা দিলেও পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপে বর্তমানে ঘটনাস্থল ও আশপাশ এলাকার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার রাখা হয়েছে।

স্থানীয়দের বরাত দিতে তিনি জানায়, বন্ধুর জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ মিটিয়ে দিতে চিরিরবন্দর থেকে এসেছিলেন ওই শিক্ষক। এ সময় প্রতিপক্ষের সাথে মারামারির ঘটনার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে ওই শিক্ষকের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।