বীরগঞ্জ

বীরগঞ্জে আজমল হকের মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মৃতিচারণ সভা ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ

প্রিন্ট
বীরগঞ্জে আজমল হকের মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মৃতিচারণ সভা ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ

প্রকাশিত : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৫৩


"মানবসেবা, পরোপকার ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন আজমল হক। তিনি ছিলেন একজন পরোপকারী, সমাজহিতৈষী, সফল ঠিকাদার ও ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ। অসহায় ও বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করার মধ্য দিয়ে তিনি মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছেন। তাঁর ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বীরগঞ্জ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির হলরুমে বীরগঞ্জ পৌর প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর কাশেম লালুর সভাপতিত্বে এবং বীরগঞ্জ প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাকের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীরগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মো. আমিরুল বাহার। মরহুম আজমল হকের কর্মময় জীবন, মানবিক গুণাবলি, সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড ও মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এ সময় ১৪ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দিনাজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা কবিরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাবু সুবাস দাস, ঠিকাদার মো. কামরুল হাসান, ঠিকাদার ফজলে আলম শাহীন, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. কাশেম আলী এবং ঠিকাদার মো. মামুন হোসেন। 

স্বাগত বক্তব্যে আজমল হক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মেহেদি হাসান সজল বলেন, আজমল হক ছিলেন একজন মানবিক ও পরোপকারী মানুষ। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ঠিকাদারি পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাঁর পরিচয় শুধু পেশাগত কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি ছিলেন ক্রীড়াপ্রেমী এবং সমাজের মানুষের সুখ-দুঃখের প্রতি সহানুভূতিশীল একজন ব্যক্তি। মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানো, অসহায় মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে একজন মানবিক মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীরগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মো. আমিরুল বাহার বলেন, একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় তাঁর অর্থ-সম্পদ কিংবা সামাজিক অবস্থানে নয়, বরং তাঁর মানবিকতা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যেই নিহিত থাকে। আজমল হকের জীবন ও কর্ম সেই মানবিক মূল্যবোধেরই একটি উদাহরণ। তাঁর মতো পরোপকারী মানুষের স্মৃতি নতুন প্রজন্মকে মানবসেবায় উদ্বুদ্ধ করবে, মরহুম আজমল হকের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ১৪ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হাতে হুইলচেয়ার তুলে দেওয়া হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তাঁদের চলাচলের ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও স্বাচ্ছন্দ্য সৃষ্টি এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সহায়তা করার প্রয়াস নেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শনের পাশাপাশি তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাপন, চলাচল ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

মরহুম আজমল হকের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজিত এ স্মৃতিচারণ ও হুইলচেয়ার বিতরণ কর্মসূচি মানবিকতা, সহমর্মিতা ও পরোপকারের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।