দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। এ বছর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মোট ১৬৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি, সাজসজ্জা ও মণ্ডপ নির্মাণের কাজ চলছে পুরোদমে। পূজাকে ঘিরে উপজেলা জুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আয়োজকরা আশা করছেন, সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে।
শারদীয় দুর্গোৎসবের বাদ্য বাজল বলে। মহালয়ায় দেবীর আবাহন শেষে মণ্ডপে মণ্ডপে এখন অপেক্ষা। দুর্গা আসছেন মর্ত্যলোকে। দম ফেলার অবসর নেই প্রতিমা শিল্পী আর আয়োজকদের। রংতুলির আঁচড় শেষে প্রতিমা মণ্ডপে নেওয়ার অপেক্ষা। বাজবে ঢাকের বাদ্য। আর, উৎসবের দিনগুলোকে নির্বিঘ্ন রাখতে প্রস্তুতি সেরেছে প্রশাসনও। শরতের কাশের দোলায় আর মেঘের ভেলায় বাজছে উৎসবের সুর। শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে দেশজুড়ে। বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের পুণ্যলগ্ন শুভ মহালয়া। শনিবার ১০ অক্টোবর) শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের ক্ষণ গণনা শুরু হয়। সেদিন কৈলাশের শ্বশুরালয় থেকে সন্তানদের নিয়ে মর্ত্যে আসেন দেবী দুর্গা। মন্দিরে মন্দিরে চণ্ডি পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দেবী দুর্গার আবাহন। চলে দেবীর চক্ষু দানের প্রস্তুতি।
দুর্গাপূজা শুরু হবে। তবে মূলত রবিবার থেকেই পূজার্থীরা দুর্গাপূজার আগমনধ্বনি শোনা যায়। দুর্গাপূজার সূচনার দিনটি সারা দেশে বেশ আড়ম্বরের সঙ্গে উদযাপিত হয়েছে।
বীরগঞ্জ কলেজ পাড়া মন্দিরের পূরোহীত সুনিল চক্রবর্তী জানান, আগামী ১লা অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে শারদীয় দূর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা। মা দুর্গা এবার মর্তে আসছেন গজে, আর যাবেন নৌকায়। যা সবার জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে। আমরা পূজার সকল প্রস্ততি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করেছি। তিনি আরও জানান, আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। পূজার সূচি অনুযায়ী ১৫ অক্টোবর মহাপঞ্চমী, ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১৭ ও ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই উৎসব।
বীরগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গোপাল দেব শর্ম্মা জানান, বীরগঞ্জ উপজেলা একটি পৌরসভার ৯টি সহ উপজেলায় এবারে ১৬৬টি পূজা মণ্ডপে শারদীয় দূর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রায় মন্দিরে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি আমরা স্বেচ্ছাসেবক রাখার ব্যবস্থা করেছি। তিনি আরও জানান,
উপজেলার বিক বাজেটের পুজার মধ্যে ১১নং মরিচা ইউনিয়নের ডাবরা জিনেশ্বরী বকবাজার সংলগ্ন মণ্ডপ, ১ নং শিবরামপুর ইউনিয়নের দেউলি রথবাজার, ৫ নং সুজালপুর ইউনিয়নের জগদল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ এবং ৪ নং পাল্টাপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠসহ বিভিন্ন এলাকায় পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
উৎসবের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে বীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.সাইফুল ইসলাম জানান, দুর্গাপূজাকে ঘিরে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
মতামত