দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পর ইঁদুর মারার গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করে সাবিরুল ইসলাম (২৩) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, শ্বশুরবাড়িতে শাশুড়ির সঙ্গে মনোমালিন্যের একপর্যায়ে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নিয়ে নেওয়া হয়। এরপর বাড়িতে ফিরে তিনি ওই ট্যাবলেট সেবন করেন।
রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবিরুলের মৃত্যু হয়।
নিহত সাবিরুল ইসলাম ঘোড়াঘাট উপজেলার বুলাকিপুর ইউনিয়নের পার্বতীপুর এলাকার মৃত সামাদ মিয়ার ছেলে। তিনি দিনমজুরের কাজ করতেন। প্রায় দুই থেকে তিন বছর আগে সিংড়া ইউনিয়নের কশিগাড়ি এলাকার মোজাম্মেলের মেয়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। ১৫ দিন আগে তাঁদের ঘরে একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার সাবিরুল শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শাশুড়ির সঙ্গে তাঁর মনোমালিন্য হয় বলে স্বজনেরা জানান। একপর্যায়ে শাশুড়ি তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনটি নিয়ে নেন।
স্বজনদের ধারণা, মুঠোফোন নিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সাবিরুল শ্বশুরবাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে বাড়িতে তিনি ইঁদুর মারার গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেন।
রাত ১০টার দিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় স্বজনেরা তাঁকে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ফজলে রাব্বি আকন্দ বলেন, হাসপাতালে আনার সময় সাবিরুলের অবস্থা গুরুতর ছিল। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার আগেই রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
স্বজনেরা জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে নেওয়ার জন্য গাড়ি জোগাড় করতে কিছুটা সময় লাগে।
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। সোমবার সকাল ৯টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতামত