দিনাজপুরের বীরগঞ্জ পৌরশহরের ঐতিহ্যবাহী ডাক্তারখানা মাঠের দীর্ঘদিনের দখল ও স্থাপনা-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের উদ্যোগে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে মাঠের ১ একর ৪৪ শতক জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে। অভিযানে ফলের দোকান, খাবার হোটেলসহ ৮৪টি দোকানঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা অপসারণ করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি এই মূল্যবান জমিতে দোকানপাট ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। অবশেষে দিনাজপুর-১ আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. মনজুরুল ইসলাম এমপির উদ্যোগে এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় জমিটি দখলমুক্ত হওয়ায় এর যথাযথ সংরক্ষণ ও পরিকল্পিত উন্নয়ন নিয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এবার যেন উচ্ছেদ কার্যক্রমের মধ্যেই উদ্যোগ সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত ও জনকল্যাণমূলক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়।
অতীতের অভিজ্ঞতা, এবার স্থায়ী সমাধানের প্রত্যাশা বীরগঞ্জের মানুষের কাছে ডাক্তারখানা মাঠ কেবল একটি জমি নয়; এটি এলাকার ঐতিহ্য ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। মাঠটিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে দখল, স্থাপনা অপসারণ এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলে আসছে।
বেশকিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, স্বাধীনতার পর থেকে ডাক্তারখানা মাঠ-সংলগ্ন স্থাপনা উচ্ছেদে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে সাত থেকে আটবার উচ্ছেদ অভিযানের কথাও উঠে আসে।
পরবর্তী সময়ে ১৮ মে ২০২৬ তারিখে দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলাম এবং দিনাজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমা খাতুন মাঠটি পরিদর্শন করেন। এ সময় মাঠের উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও জমির জটিলতা নিরসনের বিষয়ে আলোচনা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
এ ছাড়া ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দিনাজপুর টিভিতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনেও মাঠটির উন্নয়ন ও সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি উঠে আসে।
অতীতের এসব অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে এবার স্থায়ী সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়াই হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু অবৈধ স্থাপনা অপসারণ নয়, উদ্ধার করা জমির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ নিশ্চিত করাও জরুরি।
৮৪টি স্থাপনা উচ্ছেদ, উদ্ধার ১ একর ৪৪ শতক জমি সোমবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া উচ্ছেদ অভিযান প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে চলে। জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের সরাসরি হস্তক্ষেপে পরিচালিত এ অভিযানে ফলের দোকান, খাবার হোটেল, বিভিন্ন দোকানঘর, পাগলু শ্রমিক অফিস ও মাইক্রোস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন স্থাপনা অপসারণ করা হয়।
অভিযান পরিচালনাকারী দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুর মোর্শেদ অভিযান শেষে সাংবাদিকদের জানান, উদ্ধার করা সম্পত্তির মালিক জেলা পরিষদ। স্থানীয়ভাবে জায়গাটি ঐতিহ্যবাহী ডাক্তারখানা মাঠ নামে পরিচিত।
তিনি আরও জানান, বীরগঞ্জ পৌরশহরের মহাসড়কের শহিদ মিনার মোড় থেকে তাজমহল মোড় প্রর্যন্ত খালি করা হয়েছে।
অভিযানের আগে মাইকিং করে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলে অধিকাংশ দোকানমালিক নিজেরাই মালামাল সরিয়ে নেন এবং দোকানঘর ভেঙে ফেলেন। ফলে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই উচ্ছেদ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
এতে উপজেলা প্রশাসন, ভূমি অফিস, পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম এবং সিনিয়র উপপরিদর্শক জাহাঙ্গীর বাদশা রনি সরাসরি পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে সরকারি জমি উদ্ধার হলেও এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বেশ কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবিকা ও পরিবারের অর্থনৈতিক বাস্তবতা। অনেকের কাছে একটি ছোট দোকানই পরিবারের ভরণপোষণের প্রধান অবলম্বন। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হারিয়ে তাঁদের কেউ কেউ আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারেন।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মানবিক দিকটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্যাশা, প্রচলিত আইন ও সরকারি নীতিমালার আওতায় পুনর্বাসন, বিকল্প কর্মসংস্থান কিংবা অন্য কোনো সহায়তার সুযোগ থাকলে তা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে। এতে একদিকে যেমন সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণ সম্ভব হবে, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগও কিছুটা লাঘব হতে পারে।
উচ্ছেদ-পরবর্তী সময়ে মাঠটিতে কী ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুর মোর্শেদ জানান, তিনি মূলত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় অভিযান সম্পন্ন করা হয়েছে। জমির মালিক জেলা পরিষদ এবং দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্যের পরামর্শ ও পরিকল্পনার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে উন্নয়নমূলক প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
এ অবস্থায় স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংসদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলাম-এর উদ্যোগ এবং জেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ডাক্তারখানা মাঠের উন্নয়ন পরিকল্পনা দ্রুত চূড়ান্ত করা হবে।
একই সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে জমির প্রকৃত অবস্থা, স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন, পরিবেশগত বিষয় এবং ভবিষ্যৎ রক্ষণাবেক্ষণের দিকগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ডাক্তারখানা মাঠের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত হওয়ার পর সেটিকে কীভাবে জনস্বার্থে ব্যবহার করা হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, এখানে এমন একটি পরিকল্পিত পরিবেশ গড়ে তোলা হবে, যা বীরগঞ্জের মানুষের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণে কাজে আসবে।
মাঠের ঐতিহ্য সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জনসাধারণের উপযোগী উন্নয়ন কার্যক্র
মতামত