বীরগঞ্জ

বীরগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ে ঘরে ঘরে লক্ষ্মীপূজা অনুষ্ঠিত

প্রিন্ট
বীরগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ে ঘরে ঘরে লক্ষ্মীপূজা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত : ২৫ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৮:২০


বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা। শারদীয় দুর্গোৎসবের পর আশ্বিনী পূর্ণিমা তিথিতে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এ রাতে দেবী লক্ষ্মী ভক্তদের ঘরে ঘরে আসেন। তাই দেবীর আরাধনার পাশাপাশি রাত জেগে কাটান অনেক ভক্ত। এ কারণে পূর্ণিমা তিথির এ উৎসবকে কোজাগরী পূর্ণিমা বা কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা বলা হয়।

বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর রবিবার সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটে পূর্ণিমা তিথি শুরু হয়েছে। তিথি শেষ হবে ২৬ অক্টোবর সকাল ৯টা ৪১ মিনিটে। হিন্দুধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, পূর্ণিমা রাতে দেবী লক্ষ্মী ধনধান্যে ভরিয়ে দিতে পূজা গ্রহণ করতে আসেন।

 শাস্ত্রমতে, দেবী লক্ষ্মী ধনসম্পদ তথা ঐশ্বর্যের প্রতীক। তাই লক্ষ্মী ‘ঐশ্বর্যের দেবী’। উন্নতি, আলো, জ্ঞান, সৌভাগ্য, উর্বরতা, দানশীলতা, সাহস ও সৌন্দর্যের দেবী হিসেবে পরিচিত লক্ষ্মী।

বাঙালি হিন্দুদের ঘরে ঘরে আজ লক্ষ্মীপূজা হবে। এ উপলক্ষে হিন্দু নারীরা উপবাস ব্রত পালন করবেন। পূজা অর্চনার পাশাপাশি ঘরবাড়ির আঙিনায় লক্ষ্মীর পায়ের ছাপের আলপনা আঁকা হবে। সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বালন করা হবে। সাধারণত ঘরোয়া পরিবেশে লক্ষ্মীপূজার বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়।

ঐশ্বর্যের দেবী লক্ষ্মীকে বিশ্বের নানা অঞ্চলে নানাভাবে পূজা করা হয়। বাঙালি বিশ্বাসে লক্ষ্মী দেবী দ্বিভুজা ও তাঁর বাহন প্যাঁচা এবং হাতে থাকে শস্যের ভান্ডার। প্রাচীনকাল থেকেই বাঙালি হিন্দু সমাজে রাজা-মহারাজা, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ গৃহস্থ পর্যন্ত সবাই লক্ষ্মী দেবীর পূজা করে আসছেন।  দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরে কোজাগরী পূর্ণিমায় লক্ষ্মীর আরাধনায় সেজে উঠেছে বাঙিল হিন্দুদের গৃহকোণে। মঙ্গলঘট, ধানের ছড়ার সঙ্গে গৃহস্থের আঙিনায় শোভা পেয়েছে চালের গুঁড়ো, আল্পনায় দেবী লক্ষ্মীর ছাপ। লক্ষ্মী মানে শ্রী, সুরুচি। লক্ষ্মী সম্পদ আর সৌন্দর্যের দেবী। বৈদিক যুগে মহাশক্তি হিসেবে তাকে পূজা করা হতো। তবে পরবর্তীকালে ধনশক্তির মূর্তি নারায়ণের সঙ্গে তাকে জুড়ে দেওয়া হয়। শারদীয় দুর্গোৎসব শেষে প্রথম পূর্ণিমা তিথিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এ পূজা করে থাকেন। এ উপলক্ষে হিন্দু রমণীরা উপ -সব্রত পালন করেন। সন্ধ্যায় ঘরে ঘরে প্রজ্বালন করা হয় প্রদীপ।  এ সময়ের মধ্যেই পূজা সম্পন্ন করবে হিন্দু নর- নারীগণ। উপজেলায় বিভিন্ন জায়গায় ঘরোয়া পরিবেশে বেশীভাগ বাড়িতেই লক্ষ্মীপূজার নানা ধর্মীয় কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। সকলে মিলে আনন্দের সাথে এই উৎসবটি পালন করেন। 

বীরগঞ্জ পৌরসভার হরিবাসপাড়া এলাকায় পূজা করতে আসা পুরোহিত সুনীল চক্রবর্তী বলেন,কোজাগরী শব্দের অর্থ ‘কে জেগে আছো’। প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মী ভক্তদের গৃহে আগমন করেন। যেসব বাড়ির দরজা বন্ধ থাকে এবং গৃহস্থরা ঘুমিয়ে থাকেন, সেখান থেকে দেবী ফিরে যান বলে বিশ্বাস করা হয়। এ কারণেই লক্ষ্মীপূজার রাতে জাগরণের রীতি প্রচলিত।

লক্ষ্মীকে ঘিরে বাংলার জনসমাজে প্রচলিত রয়েছে নানা কাহিনি। পূজার দিন এসব কাহিনি পাঁচালি আকারে পাঠ করা হয়, যা ‘লক্ষ্মীর পাঁচালি’ নামে পরিচিত। পূজা-অর্চনা, উপবাস ও রাত জাগরণের মধ্য দিয়ে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে পালিত হয় এ উৎসব।