বিরামপুর

বিরামপুরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উত্তর অঞ্চলে ইতিহাসে প্রথম জব ফেয়ার মেলা

প্রিন্ট
বিরামপুরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উত্তর অঞ্চলে ইতিহাসে প্রথম জব ফেয়ার মেলা

প্রকাশিত : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১:৫১


দেশের উত্তরের জেলা দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় আগামী ২৭ অক্টোবর দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উত্তর অঞ্চলে ইতিহাসে এই প্রথম 'জব ফেয়ার' মেলা। দিনাজপুর-৬ আসন বিরামপুর, হাকিমপুর, নবাবগঞ্জ ও ঘোড়াঘাট চারটি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান নবাবগঞ্জ উপজেলার মতিহারা গ্রামের কৃতি সন্তান দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মোঃ জাহিদ হোসেন।বিরামপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত এ মেলায় দেশের প্রায় ৭০টি নামীদামী ও শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ফলে অবহেলিত এই এলাকার চাকরিপ্রার্থীরা নিয়োগদাতাদের সাথে সরাসরি কথা বলা,চাকরির সম্পর্কে জানা, উৎপাদিত পণ্যে বাজারজাত করন, অন স্পটে ইন্টারভিউ এবং ওই চাকুরী প্রত্যাশীরা উপস্থিত হয়ে ফ্রিতে রেজিষ্ট্রেশন করে আবেদন করার সুযোগ পাবেন বলে জানান মন্ত্রী আবু জাফর মোঃ জাহিদ হোসেন। 

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর)বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিনা খাতুন ও জব ফেয়ার মেলার প্রধান সমন্বয়ক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, দিনাজপুর-৬ আসন চারটি উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই চারটি উপজেলা প্রত্যান্ত অঞ্চলে অবস্থিত। তাই মফস্বল এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবক, তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, চাকুরী সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় মেধাবীদের জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নামীদামী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও নবাবগঞ্জ থানার মতিহারা গ্রামের কৃতি সন্তান বর্তমান সরকারের সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মোঃ জাহিদ হোসেনের উদ্যোগে এ চাকরি মেলার আয়োজন করা হচ্ছে জানান তিনি। এই মেলার আয়োজন করায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অত্যান্ত খুশি ও আনন্দিত। ঢাকার বাইরে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের সাথে তাঁদের সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা সেমিনারের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যে বাজারজাত করন পদ্ধতি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যে জব ফেয়ার মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি,মেলায় আগত স্টল দেখতে বুধবার বিরামপুর ডিগ্রি কলেজ মাঠ পরিদর্শন করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। 

এ সময় তিনি মেলায় আগত স্টল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং চাকরিপ্রার্থী ও দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধাসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করেন। আয়োজনটি সুষ্ঠ ও নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন তিনি।

মন্ত্রী আবু জাফর মোঃ জাহিদ হোসেন গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জব ফেয়ার মেলার প্রধান সম্বনয়ক। এছাড়াও বাকি তিনটি উপজেলার নির্বাহী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিরামপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মন্ডলী ও চাকুরী প্রার্থীরা মেলায় উপস্থিত হওয়ার বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে। 

তিনি জানান, এই এলাকার মানুষ যেহেতু অবহেলিত তাই এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবক,তরুণ-তরুণীদের মেধা যোগ্যতাকে জাতীয় পর্যায়ের কর্মক্ষেত্রের সাথে যুক্ত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। কর্মসংস্থানের সুযোগ শুধু ঢাকা কেন্দ্রিক না রেখে স্থানীয় পর্যায়েও ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের মেলার মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন। এছাড়া মেলায় আগত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যে বাজারজাত করন সম্পর্কে সেমিনারের মাধ্যমে দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জব ফেয়ার মেলার জন্য একটি অনলাইন এ্যাপস আছে যেখানে বিনামূল্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, স্টল ও চাকুরী প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। ইতিমধ্যে ৫০ টির অধিক প্রতিষ্ঠান ও ৬০০ চাকুরী প্রার্থী অনলাইনে আবেদন করেছেন। আমরা আশাবাদী ৭০ টির মতো চাকুরী নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান মেলায় আসবেন। আর চাকরি প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে না পারলেও সমস্যা নাই। জব ফেয়ার মেলার দিন মাঠে উপস্থিত হলে আমাদের লোকজন কিভাবে আবেদন করতে হবে সেই ব্যবস্থা করা হবে ইনশাআল্লাহ!

চাকরি প্রার্থীরা যাতে সহজে মেলায় অংশ নিতে পারেন এবং নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগের সুযোগ পান, সে বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

আয়োজনটি সফল করতে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি বেশি বেশি প্রচারের জন্য গণমাধ্যম কর্মীদের সহযোগিতার আহবান জানান তিনি।

স্থানীয়দের আশা, এ মেলার মাধ্যমে শিক্ষিত বেকার যুবক, তরুণ-তরুণীদের সামনে নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হবে। নিজ এলাকায় থেকেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাকরি সম্পর্কে জানা ও নিয়োগদাতাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাওয়ায় তাঁদের যাতায়াতের খরচ ও ভোগান্তি কমে যাবে। সেই সাথে দিনাজপুর- আসনে ইতিহাসের এই প্রথম এমন মহৎ একটি উদ্যোগ গ্রহণ করায় সর্ব স্তরের মানুষের নিকট প্রসংশায় ভাসছেন মন্ত্রী আবু জাফর মোঃ জাহিদ হোসেন।