বিরামপুর

বিরামপুরে উন্মুক্ত কয়লাখনি বিরোধী জনসভা

প্রিন্ট
বিরামপুরে উন্মুক্ত কয়লাখনি বিরোধী জনসভা

প্রকাশিত : ২ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৩২

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার রতনপুর বাজারে তেল-গ্যাস জাতীয় কমিটির উদ্যোগে উন্মুক্ত কয়লাখনি বিরোধী হাটসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে হাটসভা জনসভায় পরিণত হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) উপজেলার খানপুর ইউনিয়নে রতপুর বাজারে সন্ধ্যার পরে তেল-গ্যাস জাতীয় কমিটির হাটসভা অনুষ্ঠিত হয়। পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিকেল ৪ টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও পুলিশের বাধার কারণে প্রোগ্রামের সময়সূচি পরিবর্তন হয়। পরে স্থানীয়রা ক্ষীপ্ত হয়ে একত্রিত হতে থাকে এবং একসময় হাটসভা জনসভায় পরিণত হয়ে যায়। 

জানা গেছে,গত ৩ দিন থেকে এ অঞ্চলের আন্দোলনের কর্মীবৃন্দ বিভিন্ন প্রচার প্রচারণা ও যোগাযোগ করে ওারা ওই দিন হাটসভা আহবান করেন। বিরামপুর থানা হাটসভাকে কেন্দ্র করে পুলিশ দুপুর থেকে রতনপুর বাজার ও আশেপাশে অবস্থান নেয় এবং নজরদারি রাখে।

স্থানীয়রা জানান,বিরামপুর থানায় কর্মকর্তা রতনপুর বাজার এলাকার বিট অফিসার তাঁর নেতৃত্বে দুই জন পুলিশ সদস্য সমাবেশের তথ্য সংগ্রহ করতে এসে এক রকম ভয়-ভীতিকর অবস্থা তৈরির চেষ্টা করেন। তারা এ অঞ্চলের জাতীয় কমিটির কে? কারা এই সংগঠনের সাথে জড়িত আছে বলে দম্ভোক্তি করেন। তিনি আরও বলেন ফুলবাড়ী থেকে বিরামপুর এলাকায় জাতীয় কমিটির লোকদের নিয়ে কারা আজকের মিটিং ডেকেছেন বলে খোঁজা খুঁজি শুরু করেন। 

স্থানীয়রা আরও বলেন,তারা এ অঞ্চলের পুলিশের বিট অফিসার। কিন্তু তাদের বডি অন ক্যামেরা এবং আগ্রাসী ভাবমূর্তি এর আগে কখনো দেখা যায়নি। এরই মধ্যে জাতীয় কমিটির ফুলবাড়ী কর্মীবৃন্দ খবর পেয়ে রতনপুর বাজারে গিয়ে ২ জন পুলিশ সদস্যকে দেখতে পান। পুলিশ সদস্যরা ফুলবাড়ীর নেতৃবৃন্দেকে কোনো কিছু না বলে তাদের মাঝ থেকে রতনপুর বাজারের জনৈক এক সংগ্রামী নেতাকে ডেকে নিয়ে বলেন, থানার অনুমতি ছাড়া এই হাটে ফুলবাড়ীর তেল-গ্যাস কমিটির লোকজন নিয়ে মিটিং হয় কি করে? 

পুলিশের প্রশ্নের জবাবে ধীরে স্থানীয় ভাষায় উক্ত নেতা পুলিশ অফিসারকে বলেন,"বেশি চুলকাবেন না, ঘা হলে কিন্তু সারাতে পারবেন না চলে যান"। একথাবলেই তিনি তেল-গ্যাস জাতীয় কমিটির নেতাদের দেখিয়ে বলেন, ওই যে আন্দোলনের নেতারা কিন্তু বসে আছেন। সেই মহূর্তে পুলিশ সদস্যরা পরে আসছি বলে এলাকা ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে সন্ধ্যার পরে সমাবেশ শুরু হলে গোয়েন্দা বিভাগের লোক এসে দূর থেকে ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে চলে যায়। 

এই ঘটনায় এলাকার লোকজনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারা বলেন, পুলিশ সদস্যদের যে মহড়া তাতে মনে হয় আজই আপনাদের আমাদের সবাইকে তুলে নিয়ে যাবে। এই রাগে আর ক্ষোভে নির্ধারিত আধা ঘন্টার হাটসভায় এলাকার মানুষ একত্রিত হওয়ায় জনসভায় পরিণত হয়ে যায়। ফলে টানা আড়াই ঘন্টা পর্যন্ত চলে এই হাটসভা।

শেষে প্রতিবাদী বিশাল মিশিলে এই অঞ্চল মুখরিত হয়ে ওঠে। মিছিল শেষে অসংখ্য মানুষ নাম, স্বাক্ষর ফোন নাম্বার দিতে থাকেন। আন্দোলনের কর্মিরা এ অঞ্চলের গ্রামে গ্রামে প্রতিরোধ কমিটি গঠন করবেন বলে তারা জানান। তবে এসময় পুলিশ সদস্যদের উপস্থিত না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির বিরামপুর উপজেলার আহবায়ক রফিকুল ইসলাম, এডভোকেট শাহ নেওয়াজ শুভ, রতনপুর অঞ্চলের উন্মুক্ত খনি বিরোধী নেতা মঞ্জুরুল ইসলাম,আদিবাসী নেতা রামাই সরেন,ছাত্রনেতা নাসিম,তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা কমিটির ফুলবাড়ীর নেতা আব্দুল মজিদ চৌধুরী, এসএম নুরুজ্জামান জামান,সঞ্জিত প্রসাদ জিতু,একরামুল হক, হিমেল মন্ডল, কমল চক্রবর্তী,শাহরিয়ার সানিসহ রতনপুর বাজারের স্থায়ীয় নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন,সবচেয়ে কয়লা বেশি আছে বিরামপুরে। এই এলাকার কৃষি জমি, বাড়ীঘর, হাট বাজার, মসজিদ-গীর্জা-মন্দির, পানি ধ্বংস করে উন্মুক্ত কয়লাখনি কোন অবস্থায় করা যাবে না। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হয়তো ভুলে গেছেন তাঁর মা মরহুম প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার ২০০৬ সালে এই অঞ্চলের মানুষের সাথে ওয়াদা করে চুক্তি করেছিলেন কোন ভাবেই উন্মুক্ত কয়লা খনি করবেন না। ফলে পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে বক্তব্য দিয়েছেন তা প্রত্যাহার করে আন্দোলনের ছয় দফা চুক্তি বাস্তবায়ন করার আহবান জানান বক্তারা।