চিরিরবন্দর

আমার সন্তানদের পুলিশের কাছে দেননা; আমি অভাগি মা নিজে মারছি

প্রিন্ট
আমার সন্তানদের পুলিশের কাছে দেননা; আমি অভাগি মা নিজে মারছি

ছবি : দেয়ালে লেখা


প্রকাশিত : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১:০৫

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর নিজ ঘর থেকে গৃহবধূ ও তার দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। 

আজ রোববার রাত ৮ টার দিকে উপজেলার অমরপুর ইউনিয়ন মোস্তফাপুর বালুপাড়া গ্রাম থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পারিবারিক কলহের জেরে দূই সন্তানকে হত্যা করে গলায় ওরনা পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন মা। তবে স্বজনদের অভিযোগ, দুই সন্তানসহ গৃহবধূকে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদ এর জন্য নিহতের স্বামীসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। 

নিহতরা হলেন- মোস্তাফাপুর গ্রামের মাহাতাব হোসেনের পুত্র শাকিলের সাথে স্ত্রী স্বর্না আখতার (২৩), তার ছেলে সাফায়েত হোসেন (৪) ও কন্যা রাইসা আখতার (১)। 

স্থানীয়রা জানায়, রোববার বিকেলে নিজ ঘরে প্রবেশ করে দরজা লাগিয়ে দেন স্বর্না। পরে দুই সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন এবং গলায় ওরনা পেচিয়ে নিজে আত্বহত্যা করেন। তার পরিবারের সদস্যদের চিৎকার চেঁচামেচিতে এলাকার লোকজন ছুটে আসে এবং বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামী শাকিল, শ্বশুর মাহাতাব উদ্দিন ও শ্বাশুড়ি ইসমত আরাকে আটক করে নিয়ে যায়। 

স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করেছেন তারা। 

এদিকে নিহতের শোয়ার ঘরে দেয়ালে লেখা ছিল, "আজ থেকে এই গল্প শেষ। আমার সন্তানদের পুলিশের কাছে দেননা। আমি অভাগি মা নিজে মারছি। আমাদের লাস পলাশবাড়ি মাটি দেন। সাকিল যেন না ছোয়। মা বাবা সরি আই লাভ ইউ।" আরেক দেয়ালে লেখা ছিল, "সাফায়াত রাইসা মনি আই লাভ ইউ কলিজা পাখিরা আমার। " 

চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুন নবী বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সিআইডি, ডিবি ও থানা পুলিশ কাজ করছে। তবে ঘটনাস্থলে আসার পর গৃহবধুর ঝুলন্ত মরদহ পাওয়া যায়নি, মরদেহ মাটিতে শোয়ানো ছিল। মরদেহ কে নামিয়েছে সেটা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। 

দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন (অপরাধ) জানান, নিহতদের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।