স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও অনেক এমপি, অনেক চেয়ারম্যান ও নেতাকর্মীরা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং সহযোগিতা করছে। তবে সবচেয়ে আনন্দের ও খুশির খবর হচ্ছে আমাদের দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বর্তমান সরকারের সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন এমপি মহোদয়ের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় এবার প্রথম বারের মতো সরকারি অনুূূদান পেয়ে খুবই আনন্দিত ও খুশি নৃগোষ্ঠী আদিবাসী সম্প্রদায়ের কিশোর কিশোরী তরুণ তরুণী সহ সব বয়সের মানুষ বলে জানান আদিবাসী নেতারা।
হাকিমপুর হিলি পৌরসভার গোহাড়া ও গোহাড়া আদিবাসীপাড়ায় গিয়ে দেখা গেছে,নারী পুরুষ পূজা অর্চনা,ভক্তি প্রার্থনা ও নাচ গানের মধ্য দিয়ে কারাম উৎসব অনুষ্ঠিত করেছে। এটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী (আদিবাসী সম্প্রদায়ের) মানুষের সবচেয়ে বড় ধর্নীয় উৎসব।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত টায় টায় হাকিমপুর হিলি ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী (আদিবাসীপাড়ার) উদয়গিরি, গোহাড়া, গোহাড়া আদিবাসীপাড়া, বাগমাড়া, মালঞ্চা, হাতিশোঁও গ্রাম সহ গ্রামে সহ ১০ টি আদিবাসী পাড়ায় নারী ও পুরুষ তেল কারাম গাছের তিনটি ডাল একত্রিত করে নাচে গানে উৎসব মুখর পরিবে এই কারাম উৎসব পালিত করা হয়।
কত বছর আগে থেকে এই পূজা করা হচ্ছে সঠিক তথা নির্ভরযোগ্য দিন তারিখ কেউ বলতে পারে না এবং জানে না।
পূর্ব পুরুষ থেকেই প্রতি বছর ভাদ্র মাসের পূর্ণিমাত একাদশীতে এই কারাম উৎসব পালন করে আসছেন তারা। এ উৎসব উপলক্ষে আদিবাসী তরুণ-তরুণী, কিশোর কিশোরী সব বয়সের মানুষ দিনব্যাপী উপোস থাকেন,পরে সন্ধ্যায় পূজা অর্চনা শেষ করে অন্ন গ্রহণ করেন। এরপর শুরু হয় তাদের উৎসব। নেচে-গেয়ে আর অর্চনার মধ্যে দিয়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষেরা কারাম উৎসবের মাধ্যমে বিপদ থেকে মুক্তি, অনাবৃষ্টি, অতিবন্যা ও খরা থেকে বাঁচতে দেশ ও মানুষের মঙ্গল কামনা করেন। উৎসবটি দেখার জন্য আদিবাসী সম্প্রদায়ের পাশাপাশি, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ সমবেত হন আদিবাসী পল্লিগুলোতে।
আজ মঙ্গলবার রাতে প্রথমে হাকিমপুর হিলি পৌরসভার গোহাড়া গ্রাম ও গোহাড়া আদিবাসী পাড়ায় আদিবাসী সম্প্রদায়ের কারাম উৎসব পরিদর্শন ও তাঁদের সাথে মতবিনিময় শেষে দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বর্তমান সরকারের সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন এমপি,জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দিয়ে জেলার প্রতিটি আদিবাসী পল্লীতে বিএনপির সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ তহবিল থেকে আপনাদের পাশে থাকার জন্য এবং সুষ্ঠ পরিবেশের মধ্যে দিয়ে যেন আপনারা শান্তিপূর্ণ ভাবে এই উৎসব পালন করতে পারেন সেই লক্ষ্য সরকারি অনুদান আমাদের মন্ত্রী মহোদয়ের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় প্রতিট জেলা প্রশাসক মহোদয়কে আদিবাসী সম্প্রদায়ের কোন পল্লীতে এই উৎসব পালন করা হয়। সেই তথ্য সম্পূর্ণ করে প্রতিটি স্থানে সরকারি অর্থ পৌঁছে দেওয়ার জোঠ তাগিদ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন এমপি মহোদয়ের পক্ষ থেকে উপজেলার ১০ টি আদিবাসী পল্লীতে অনুষ্ঠান পরিদর্শন ও উপস্থিত ওই সম্প্রদায়ের নারী, পুরুষ সহ সব শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে কুশল বিনিময় ও মাননীয় মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন এমপি মহোদয়ের শুভেচ্ছা বার্তা জানিয়ে দেন এবং সরকারি অনুদানের অর্থ তুলে দেন হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ ফেরদৌস রহমান,
এসয় উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হযরত আলী সরদার হাকিমপুর উপজেলা আদিবাসী সংগঠনে সাবেক চেয়ারম্যান বাদল টপ্প, আহবায়ক জুয়েল টপ্পো, হিলি প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ গোলাম রব্বানী, বিএনপি নেতা মোঃ সেলিম, শ্রমিক নেতা আজিজুল ইসলাম, অত্র এলাকার সবেক কাউন্সিলর লিটন মিয়া সহ শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরের পরে আজ সরকারি অনুদান পাওয়ায় আমর খুবই আনন্দিত ও খুশি। বিগত বছর গুলোতে বহু এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর চেয়ারম্যান আমাদের কাছে এসেছে ব্যক্তিগত ভাবে স্বাধ্যমতো আর্থিক সহযোগিতা করেছে। কিন্তু সরকারি অনুূদান বা কোন অর্থ বরাদ্দ পাইনি। এবারেরই প্রথম আমাদের এই কারাম উৎসবে উপজেলার ১০ টি আদিবাসী পল্লীতে অর্থ অনুদান দেওয়া হচ্ছে। যদিও অনুদান সামান্য তবে শুরু যখন হয়েছে আগামীতে আমরা আমাদের চাওয়া পাওয়া মোতাবেক পাব বলে আমি আশাবাদী। পরিবারের ছোট বড় সকলেই এই উৎসবে যোগ দেয়।
হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ ফেরদৌস রহমান বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরে আপনাদের ধর্মীয় কারাম উৎসব (ডালপূজা) অনুষ্ঠানে আসতে পেরেছি এতে আমিও খুব খুশি এবং আমার প্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি হাকিমপুর উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানায়। আপনারা সকলেই মিশে আপনাদের উৎসব পালন করে যান আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে। সেই বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের দিক নির্দেশনা মোতাবেক ও আমাদের দিনাজপুর-৬ আসনের বিএনপির পথপ্রদর্শক মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন এমপি মহোদয়ের শুভেচ্ছা বার্তা ও কিছু সামান্য অনুদান আপনাদের হাতে পৌঁছে দিলাম মাত্র।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার প্রধান জনাব তারেক রহমানের দিক নির্দেশনায় মসজিদে দুই লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হলে, আপনাদের গীর্জা, মন্দিরে সমপরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়।করাণ বর্তমান সরকার দেশের মানুষের মধ্যে কোন বৈষম্য রাখতে চায় না। আমরা সবাই বাঙালি এবং বাংদেশি এটায় আমাদের বড় পরিচয় ।
মতামত