এ বছর আগাম ফুলকপি চাষ করে আশানুরূপ লাভবান হওয়ায় খুশি হয়েছেন দিনাজপুর বীরগঞ্জ উপজেলার চাষিরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আগাম ফুলকপি চাষে ফলনও পাচ্ছেন ভালো। তবে গেল বছরের তুলনায় খরচ বেড়েছে ফুলকপি চাষে।
উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের কবিরাজহাট ও কাঁচাবাজারে সবজি পাইকার কৃষকদের খেত থেকে সরাসরি ফুলকপি কিনছেন। স্থানীয় খুচরা পাইকারের মাঝে এসব সবজি বিক্রি করছেন।
এখান থেকে ফুলকপি ট্রাকযোগে রাজধানী ঢাকাসহ দশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে । তবে গেল বছরের তুলনায় এবছর আগাম জাতের ফুলকপির সরবরাহ একটু কম।'
স্থানীয় বাজারগুলোতে প্রতি কেজি ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৭০-৭৫ টাকা। সবজি বিক্রেতারা কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি ফুলকপি কিনছেন ৫৫-৬০ টাকা। প্রতি কেজি ফুলকপি উৎপাদনে কৃষকের খরচ হয় ১৮-২০ টাকা।
উপজেলার সাতোর ইউনিয়নের প্রাণনগর গ্রামের কৃষক শামীম জানান, তিনি ৪ বিঘা জমিতে আগাম জাতের ১৬ হাজার ফুলকপি চারা রোপণ করেন। আবহাওয়া ভালো হওয়ায় প্রতিটি গাছে ফলন এসেছে। আগাম জাতের প্রতিটি ফুলকপি ৪০০-৫০০ গ্রাম হয়ে থাকে। প্রত্যেকটি ফুলকপি উৎপাদনে খরচ হচ্ছে ১৯ টাকা। এবার অনেক পরিশ্রম করে জমিতে আগাম ফুলকপি চাষ করছি আশা করি ভালো দাম পাবো।
উপজপলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় এবছর ফুলকপি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৫৯৩ হেক্টর জমি। এখন পর্যন্ত ১৭০ হেক্টর জমিতে আগাম ফুলকপির চাষ হয়েছে। বিগত বছর এমন সময়ে ৯২ হেক্টর জমিতে আগাম ফুলকপির চাষ হয়ে ছিল।
সরেজমিনে ৯ নং সাতোর ইউনিয়নের প্রাননগর, দলুয়া, ২৫ মাইল এবং ৮ নং ভোগনগর ইউনিয়নের ভাবকি, বটতলী সহ নিজপাড়া ও পাল্টাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় যে আগাম ফুলকপির ব্যাপক চাষ হয়েছে। বর্তমানে আগাম জাতের রত্ন, নাসা-৪৫ ও হোয়াইট মার্বেল ও নিনজা জাতের ফুলকপির ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় করছেন কৃষকরা।
উপজেলার ঢাকা-পঞ্চগড় মহাসড়কের পাশে দলুয়া গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম জানান বর্তমানে ফুলকপি ক্ষেতের অবস্থা ভালোই আছে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ২০- ২২ দিন পর ফুলকপি বাজারজাত করা যাবে এবং বাজারে ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে।
সাতোর ইউনিয়নের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কাশেম আলী বলেন, 'এ বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় কৃষকরা আগাম জাতের ফুলকপির আশানুরূপ ফলন পাচ্ছেন। ফুলকপির বাজারদর গেল বছরের তুলনায় বেশি হওয়ায় কৃষকরা ফুলকপি চাষে আশানুরূপ লাভবান হচ্ছেন। কৃষকদের ফুলকপিসহ নানা ধরনের সবজি চাষে উৎসাহ দেওয়া হয়। বিপুল সংখ্যক কৃষক সবজি উৎপাদন করে নিজেদের অনেক উন্নতি করছেন।'
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: শরিফুল ইসলাম জানান, বীরগঞ্জে ১৭০ হেক্টর জমিতে আগাম ফুলকপি চাষ হয়েছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ মাঠ পর্যায়ে কৃষকদেরকে আগাম ফুলকপি চাষে সার ও সেচ প্রয়োগ এবং বালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে করিগরী পরামর্শ প্রদান করছে। বর্তমানে আগাম ফুলকপির মাঠের অবস্থা ভালো। আশা করছি ফলন ভালো হলে কৃষকরা লাভবান হবে এবং আগাম ফুলকপি চাষ বৃদ্ধি পাবে।
মতামত