বীরগঞ্জ

বীরগঞ্জে আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা অনুষ্ঠিত

প্রিন্ট
বীরগঞ্জে আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত : ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১০:০৮


তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে আধুনিক সভ্যতার আড়ালে হারিয়ে যেতে বসেছে আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা।

 নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে দিনাজপুরের বীরগঞ্জে বিলুপ্তপ্রায় এই লাঠি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। খেলা দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শিশু, কিশোর, বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষ মাঠের চারপাশে ভিড় করেন।

বুধবার(৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মাঠে উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ যুব সমাজের আয়োজন ও নাবা ট্রেডার্স এর সহযোগিতায় সাহেবগঞ্জ আদর্শ ক্লাবে ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা উৎসবে 

মোহনপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সম্ভাব্য ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী মো:আলমগীর আলম সিদ্দিকী ডাবলু এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে খেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন 

বীরগঞ্জ উপজেলা যুবদলের অন্যতম সদস্য, বীরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ও আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পদপ্রার্থী মো: আক্কাস আলী। অন্যান্যদের বক্তব্য রাখেন পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মোঃ সুজন আলী,উপজেলা রিক্সার ভ্যান চালক ইউনিয়নের সভাপতি মো: খায়রুল ইসলাম প্রমুখ। ঢাক-ঢোলের তালে তালে চলে লাঠিয়ালদের খেলার তাকমা। প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা করে পাল্টা আঘাত করতে আক্রমণের চেষ্টা চালায় লাঠিয়ালরা। লাঠিয়ালদের লাঠি ঘুরানোর দেখতে মাঠে ভিড় করেন নানা বয়সি মানুষ। 

এই খেলায় বড় করিমপুর লাঠিয়াল বাহিনী অংশ নেয়। গ্রামবাংলার এই খেলাকে কেন্দ্র করে মাঠের একপাশে বসেছে গ্রামীণ মেলা। 

 বড় করিমপুর লাঠিয়াল বাহিনী অধিনায়ক মো: জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা বিলুপ্তপ্রায়। এই মাঠে প্রায় ২০ বছর পর লাঠি খেলার আয়োজন দেখে অনেক ভালো লাগছে। বহুবছর পর লাঠি খেলা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার দর্শকরা আসেন। তিনি আরও বলেন,নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করে দিতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যেন নতুন গ্রাম-বাংলার হারিয়ে যাওয়া খেলাটি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে পারি।

খেলা দেখতে আসা আনারুল ইসলাম বলেন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই খেলা দেখা যায় না। আমার এক বন্ধুর কাছে শুনে, খেলা দেখতে এসেছি। অনেক ভালো লাগছে, এই প্রথম লাঠি খেলা দেখলাম।

কলেজ শিক্ষার্থী সজিব ইসলাম বলেন, খেলাটি দেখতে অনেক আকর্ষণীয়। সবাই দেখে খুব আনন্দ পায়। আমরা চাই, প্রতিবছরই যেন এ খেলা এভাবে চালু থাকে। খেলাটি পরিচালনা করেন ধারাভাষ্যকার রিমল রায়।