হাকিমপুর

হাকিমপুরে এক রাতে ১০ খড়ের পালায় অগ্নিসংযোগ আতঙ্কে ৩ গ্রামের মানুষ

প্রিন্ট
হাকিমপুরে এক রাতে ১০ খড়ের পালায় অগ্নিসংযোগ আতঙ্কে ৩ গ্রামের মানুষ

প্রকাশিত : ৬ জুলাই ২০২৬, বিকাল ৫:৩৫


দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার আলিহাট ইউনিয়নের বাওনা, ইটাই ও বাশমুরি গ্রামে এক রাতে ধারাবাহিকভাবে ১০টি খড়ের পালায় অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্বৃত্তদের এ ঘটনায় কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

রবিবার রাত ১০টার দিকে ইটাই ভূমিহীন বহুমুখী সমবায় সমিতির সামনে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল বিষয়ক কমিটি গঠন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

সভা চলাকালীন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বাওনা গ্রামে প্রথম একটি খড়ের পালায় আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। 

আগুন নেভানোর কাজ চলে রাত ১টা পর্যন্ত। কিন্তু এরপরও থামেনি অগ্নিসংযোগ। ওই রাতেই ১টার দিকে আবারও আরেকটি খড়ের পালায় আগুন দেওয়া হয়। এর দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর ইটাই গ্রামে একের পর এক পর্যায়ক্রমে পাঁচটি খড়ের পালায় আগুন লাগানো হয়। ভোর ৪টা পর্যন্ত আগুন নেভাতে হিমশিম খেতে হয় ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের।

এ সময় হাকিমপুর ফায়ার সার্ভিস ইটাই গ্রামের আগুন নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত থাকায় সকালে ঘোড়াঘাট থেকে একটি অতিরিক্ত ফায়ার সার্ভিস ইউনিট এসে বাওনা গ্রামের আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি দুর্বৃত্তরা বাওনা কমিউনিটি ক্লিনিকের পানির ট্যাংকির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নিচে ফেলে দেয় এবং পানির পাইপলাইন ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে রয়েছেন মো. মিজানুর রহমান, মো. সফিউল ইসলাম, মো. জামাতি, মো. সুলতান মাহমুদ, মো. রাজ্জাক, মো. শহিদ, মো. দিলদার হোসেন, মো. রহমত আলী ও মো. মিনহাজুল ইসলাম। তাদের কয়েক বিঘা জমির খড় পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, পরিকল্পিতভাবে একের পর এক খড়ের পালায় আগুন দেওয়া হয়েছে। ঘটনার শুরু থেকেই ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও রাত প্রায় ৪টার দিকে হাকিমপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শেষে থানায় চলে আসেন। 

এবিষয়ে হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোঃ জাকির হোসেন জানান, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখ জনক বিষয়! তবে খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে পুলিশের একটি চৌকস দল পাঠিয়ে দেয়। পুলিশ ঘটনা স্থল পরিদর্শন করে এসেছে।

তবে কে বা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। আপনারাও সহযোগিতা করুন পুলিশ ঘটনা গুলোর রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান ওসি মোঃ জাকির হোসেন।