শিক্ষাঙ্গন

গঙ্গাপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে সামগ্রী নেয়া নিয়ে প্রশ্ন, তদন্ত দাবি

প্রিন্ট
গঙ্গাপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে সামগ্রী নেয়া নিয়ে প্রশ্ন, তদন্ত দাবি

ছবি : গঙ্গাপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে সামগ্রী নেয়া নিয়ে প্রশ্ন, তদন্ত দাবি


প্রকাশিত : ১৩ মে ২০২৬, রাত ৯:৫৯

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার মুকুন্দপুর ইউনিয়নের গঙ্গাপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনের টিন, দরজা, জানালা, কাঠ ও অন্যান্য সামগ্রী অপসারণ ও বিক্রিকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের একাংশ স্বচ্ছতা ও নিয়ম অনুসরণের প্রশ্ন তুললেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজের স্বার্থেই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) ঘটনাস্থলে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের নিরাপত্তার জন্য গ্রিল নির্মাণসহ কিছু উন্নয়নমূলক কাজে অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় পুরোনো ও পরিত্যক্ত কয়েকটি কক্ষের সামগ্রী অপসারণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব সামগ্রী উন্মুক্ত নিলাম ছাড়াই কেজি দরে বিক্রি করা হয়েছে এবং কিছু সামগ্রী শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যেও বণ্টন হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনার দিন তিনি ছুটিতে ছিলেন। তবে শিক্ষকদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন,নতুন ভবনের নিরাপত্তার জন্য গ্রিল তৈরি করা হয়েছে। গ্রিল বিদ্যালয়ে আনা হয়েছে এবং এ ধরনের উন্নয়নমূলক কাজে অর্থের প্রয়োজন ছিল। সে কারণেই আলোচনা করে পরিত্যক্ত সামগ্রী বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষকদের নিয়ে গঠিত কমিটিই বিষয়টি পরিচালনা করেছে।

তবে ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ শেষ থাকলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল কি না জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।

গঠিত কমিটির সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষক জানান, পরিত্যক্ত টিন ও অন্যান্য সামগ্রী ওজন অনুযায়ী নির্ধারিত দামে বিক্রি করা হয়েছে। কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে কিছু সামগ্রী নিয়েছেন এবং অনেকে টাকা পরিশোধ করেছেন, আবার কেউ পরে পরিশোধ করবেন বলে জানিয়েছেন।

তবে এ বিক্রয় কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিদ্যালয়ের জমিদাতা পরিবারের সদস্য গোলাপ রব্বানীসহ স্থানীয়রা। গোলাপ রব্বানী বলেন, শিক্ষকরা নিজেদের পছন্দমতো ভালো মানের টিন, দরজা ও অন্যান্য সামগ্রী আগে থেকেই বেছে নিয়েছেন। এরপর প্রায় ৪০০ কেজি ভাঙা ও অপ্রয়োজনীয় টিন আলাদাভাবে কেজি দরে বিক্রি করে তার মতে, বাজারমূল্যে বিক্রি করা গেলে বিদ্যালয়ের জন্য আরও বেশি অর্থ পাওয়া যেত। কিন্তু পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে উন্মুক্ত নিলাম, লিখিত রেজুলেশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার মতো প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন ছিল। তাদের মতে, নিয়মতান্ত্রিকভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হলে এ ধরনের বিতর্ক তৈরি হতো না। 

বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও সরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও বিধি অনুসরণ নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের মতে, প্রশাসনিক যাচাই বা তদন্তের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হলে জনমনে থাকা প্রশ্নগুলোরও সমাধান হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শমসের আলী মন্ডল মুঠোফোনে বলেন,সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। বিষয়টি আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিনা খাতুন বলেন, বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনের সামগ্রী বিক্রি বা নিলাম বিষয়ে তাকে অবহিত করা হয়নি।