দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী হাকিমপুর উপজেলায় বৃটিশের সময়ের হিলিস্টেশনে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ না থাকায় সরকার যেমন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে তেমনি ঢাকাগামী যাত্রীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। দীর্ঘ দিনের হিলিবাসীর প্রাণের দাবি পূরন হওয়ায় প্রথম বারের মতো ঢাকাগামী দুইটি আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজের অনুমতি দেওয়ায় দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বর্তমান সরকারের সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপি মহোদয়কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আনন্দ মিছিল করেছে বিএনপির দলীয় নেতা-কর্মী সহ স্থানীয়রা।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার হিলি রেলস্টেশন এলাকা থেকে আনন্দ মিছিলটি বের হয়ে হিলি বন্দর এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাজারস্থ হিলি গোডাউন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
পরে সেখানে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং শেষ উপস্থিত সাধারণ মানুষের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
আলোচনা সভায় হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী, হিলি আজিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক, সহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার পর এই প্রথম হিলি স্টেশনে ঢাকাগামী দুটি আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ এর অনুমতি মিলেছে যা হিলিবাসীর জন্য সত্যি আনন্দের। হিলি স্টেশনে নীলসাগর ও চিলাহাটি এক্সপ্রেস নামের দুটো ট্রেনের স্টপেজ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে হিলি স্থলবন্দর এলাকা আরো একধাপ এগিয়ে গেলো। এসময় বক্তারা বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান,রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম এবং দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃএ জেড এম জাহিদ হোসেনকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান হিলিবাসীর পক্ষ থেকে এই আনন্দ মিছিল করা হয় এবং মিছিল শেষে মিষ্টিমুখ করা হয়।
হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী জানান, হিলি রেলস্টেশন বৃটিশের (১৯৪৭) সালে স্থাপিত হলেও এর কোন উন্নয়ন হয়নি। এখানে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর হিলি স্থলবন্দর অবস্থিত। যেখান থেকে সরকারের প্রতি কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়। কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য এই পুরনো রেল স্টেশনে রাজশাহী যাওয়ার পথে বরেন্দ্র এবং চিলাহাটি যাওয়ার পথে তিতুমীর ট্রেন স্টপেজ ছাড়া আর কোন ট্রেন দাঁড়ায় না। ফলে দূর থেকে কোন ব্যবসায়ী, আত্মীয় স্বজন ও শিক্ষার্থী সহ সাধারণ মানুষ ঢাকা যাওয়ার জন্য এবং ঢাকা থেকে আসার সময় বিরামপুর বা পার্শ্ববর্তী পাঁচবিবি রেলস্টেশনে উঠতে এবং নামতে হয়। দীর্ঘ দিনের হিলিবাসীর প্রাণের এই দাবি আমাদের দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বর্তমান সরকারের সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এ জেড এম জাহিদ হোসেন মহোদয়কে বিষয়টি অবগত করা হয় এবং নির্বাচনের সময় বলেছিলেন, আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে যেতে পারলে হিলিবাসীর দীর্ঘ দিনের প্রাণের দাবি পূরন করা হবে ইনশাআল্লাহ! তারই বাস্তবতা হিসেবে আজকের এই উন্নয়নের মধ্যে দিয়ে হিলি স্থলবন্দর আরও একধাপ এগিয়ে গেলো বলে আমি মনে করি। তাই হিলিবাসী এই আনন্দে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী, রেলমন্ত্রী ও সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী মহোদয়গনকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টিমুখ করা হয়।
মতামত