দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্সরে সেবা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম বিভ্রান্তি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, হাত-পায়ের পাশাপাশি বুকের এক্সরেও করা হয়। তবে এক্সরে বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মীর দাবি, ১৯৯৪ সালে সরবরাহ করা পুরোনো মেশিনে হাত-পা ছাড়া অন্য কোনো অঙ্গের এক্সরে করা সম্ভব নয়। ফলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে এসে হাসপাতাল থেকেই ফিরতে হচ্ছে রোগীদের। বাধ্য হয়ে যেতে হচ্ছে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।
দিনাজপুরের ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্সরে সেবা নিয়ে এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে প্রশ্ন উঠেছে, হাসপাতালে আসলে কোন কোন এক্সরে করা হয়?
সম্প্রতি জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন আসমা (৪৫) নামে এক নারী। চিকিৎসক তাকে বুকের এক্সরে করার পরামর্শ দেন। পরে হাসপাতাল থেকেই তাকে এক্সরে কক্ষে পাঠানো হয়।
তবে সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, পুরোনো মেশিনে বুকের এক্সরে করা সম্ভব নয়। পরে বাধ্য হয়ে হাসপাতালের বাইরে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে পরীক্ষা করান তিনি।
আসমার এক স্বজন বলেন, জরুরি বিভাগ থেকে বুকের এক্সরে করার জন্য তাকে হাসপাতালের এক্সরে ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি জানান, পুরোনো মেশিনে বুকের এক্সরে করা সম্ভব নয়। তাই বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হয়েছে।
হাসপাতালের এক্সরে ল্যাব টেকনোলজিস্ট শমশের আলী বলেন, ‘এই মেশিন অনেক পুরোনো। আশপাশের সব জেলা-উপজেলায় ডিজিটাল মেশিন সরবরাহ করা হলেও এখানে ১৯৯৪ সালে দেওয়া মেশিন দিয়েই কাজ করতে হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘এ মেশিনে মাথা, কোমর ও বুকের এক্সরে করা সম্ভব হয় না। শুধু হাত ও পায়ের এক্সরে করা যায়।’
তার দাবি, এ কারণে মাথা, কোমর ও বুকের এক্সরে করাতে আসা রোগীদের ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে।
তবে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রিয়াঙ্কা কুন্ডুর বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন।তিনি বলেন, হাসপাতালে হাত-পা ছাড়াও বুকের এক্সরে করা হয়। তবে নতুন ডিজিটাল এক্সরে মেশিনের প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করেছেন তিনি। প্রিয়াঙ্কা কুন্ডু জানান, নতুন মেশিনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
এক্সরে বিভাগের দায়িত্বে থাকা কর্মী কেন বুকের এক্সরে করা যায় না বলে রোগীদের জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতালের কর্মকর্তা ও এক্সরে বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মীর এমন বিপরীত বক্তব্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসলে বুকের এক্সরে সেবা চালু আছে কি না।
যদি বুকের এক্সরে করা হয়ে থাকে, তাহলে রোগীদের কেন বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে? আর যদি পুরোনো মেশিনে বুকের এক্সরে করা সম্ভব না হয়, তাহলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ‘করা হয়’ বলা হচ্ছে কেন?
বিশেষ করে বুক, মাথা ও কোমরের এক্সরে প্রয়োজন এমন রোগীদের ভোগান্তি বেশি। সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা করাতে না পেরে চিকিৎসার পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে তাদের।
সেবাগ্রহীতাদের দাবি, কর্মকর্তা ও কর্মীর পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের অবসান ঘটিয়ে এক্সরে সেবার প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট করতে হবে। একই সঙ্গে পুরোনো মেশিনের পরিবর্তে আধুনিক ডিজিটাল এক্সরে মেশিন স্থাপন করে রোগীদের ভোগান্তি কমানোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
মতামত