উত্তরের শস্যপ্রধান জেলা দিনাজপুরের খানসামায় অনুমোদিত সীমার বাইরে সার মজুত রাখার অভিযোগে মোজাহারুল ইসলাম নামে এক বিএডিসি সার ডিলারের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাঁর গুদাম থেকে ৯২০ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার পাকেরহাট এলাকায় ‘মেসার্স রনি ট্রেডার্স’ নামের ওই ডিলারের গুদামে অভিযান চালিয়ে এসব সার জব্দ করা হয়। অভিযানের সময় ডিলার মোজাহারুল ইসলাম পলাতক ছিলেন বলে জানা যায়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, ‘মেসার্স রনি ট্রেডার্স’ এর মালিক মোজাহারুল ইসলাম বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) নিবন্ধিত সার ডিলার। তাঁর গুদামে নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত সার মজুত করে রাখার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি বিভাগের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে গুদামে থাকা সার গণনা করে মোট ৯২০ বস্তা সার পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২৬০ বস্তা এমওপি এবং ৬৬০ বস্তা ডিএপি সার রয়েছে।
অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুজ্জামান সরকার এবং
জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মনোয়ার হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অয়ন ফারহান শামস ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার।
অভিযান শেষে ইউএনও কামরুজ্জামান সরকার বলেন, কৃষকদের দোরগোড়ায় সরকার নির্ধারিত মূল্যে ও সঠিক সময়ে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। ডিলারদের গুদাম ও বিক্রয়কেন্দ্রে নিয়মিত তদারকি ও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরো বলেন, জব্দ করা সার পরবর্তী সময়ে প্রচলিত নিয়ম ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কৃষকদের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার জানান, সার মজুত ও বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে ডিলারদের একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। তবে নির্দেশনা অমান্য করে অনুমোদিত সীমার বাইরে সার মজুত রাখার অভিযোগে কৃষকদের স্বার্থে এ আইনি
পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মতামত