দিনাজপুরের হাকিমপুর হিলিতে মা এর সম্পত্তির বিষয়ে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে ভাতিজাদের লাঠির আঘাতে রফিকুল ইসলাম (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় পার্শ্ববর্তী বিরামপুর হাসপাতালে মৃত্যু হয় চাচা রফিকুল ইসলামের।
এঘটনায় অভিযুক্ত ভাতিজা জাকিরুল ইসলাম সেনা সদস্য ও অপর ভাতিজা তামজিদুল ইসলাম দুই ভাই বলে জানান স্থানীয়রা।
আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর)বেলা ১১টার দিকে হাকিমপুর উপজেলার খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। একই দিন দুপুরের পরে বিরামপুর হাসপাতালে মৃত্যু হয় চাচা রফিকুল ইসলামের।
নিহত রফিকুল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত অফিল উদ্দিনের ছেলে।
ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ভাতিজা তামজিদুল ও জাকিরুল ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে।
নিহত রফিকুল ইসলামের ছেলে বলেন, আজ বৃহস্পতিবার সকাল এগারোটার দিকে বাড়িতে তার বাবা রফিকুল ইসলাম ফুফু, দাদি ও অন্য সদস্যরা তাদের জমি সংক্রান্ত আলোচনা করতেছিলো। এমন সময় তার চাচাতো দুই ভাই তামজিদুল ইসলাম ও জাকিরুল ইসলাম তাদের বাড়ির সামনে মোটরসাইকেল নিয়ে এসে রফিকুলের ছেলেকে জিজ্ঞেস করে তুই ভালো আছিস বলে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রেখে বাড়ির ভিতরে ঢোকে। সঙ্গে সঙ্গে রফিকুল ইসলামের ছেলে বাড়িতে ঢোকে। এই সময় তাঁর চাচাতো ভাইয়েরা বাবা রফিকুল ইসলামকে বলে তুই কিসের জমির ভাগ পাবু। উত্তরে রফিকুল বলেন, আমি পাবো কেন? আমার মা ভাগ পাবে না। আমার মা কে তোরা বাহির করে দিছিস আমি তাঁর ছেলে খোঁজ নিবো না। ভাগ পাবে ওরা পাবে তুই ওকালতি করে বেড়াস কেন? এই কথা বলে তামজিদুল ও জাকিরুল দুই ভাতিজা উত্তেজিত হয়ে লাঠি দিয়ে চাচাকে অচমকা আঘাত করলে খাটের ওপর পড়ে যায় রফিকুল ইসলাম। রফিকুলের ছেলেকে একজন ধরে ছিলো। এরপর রফিকুল ইসলামকে লাঠি দিয়ে অতর্কিতভাবে মারধর ও আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে লুটিয়ে পড়েন।
নিহত রফিকুল ইসলামের ছেলে ও স্বজনরা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এবিষয়ে হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, থানার খট্রামাধবপাড়া ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত জেড়ে ভাতিজাদের লাঠির আঘাতে বৃদ্ধ চাচা নিহত হওয়ার কথা শুনেছি।খবর পেয়ে পুলিশের একটি চৌকস দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের এম আব্দুর রহিম দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
এবিষয়ে পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা (ডিএসবি) সদস্যরা তৎপর রয়েছে।
মতামত