ঘোড়াঘাট

ঘোড়াঘাটে এক নলকূপে ১২৫ একর, সেচের অভাবে ফেটে চৌচির আমনের জমি

প্রিন্ট
ঘোড়াঘাটে এক নলকূপে ১২৫ একর, সেচের অভাবে ফেটে চৌচির আমনের জমি

প্রকাশিত : ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:১৯


 দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ১২৫ একর জমির সেচের জন্য রয়েছে মাত্র একটি গভীর নলকূপ। পর্যাপ্ত পানি না পাওয়ায় একবার সেচ দেওয়ার পর পরবর্তী সেচের জন্য কৃষকদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ দিন। এর মধ্যে পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে আমন ধানের গোড়া। কোথাও কোথাও জমিতে দেখা দিয়েছে ফাটল।

 বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের পেছনে হাজার হাজার টাকা খরচ করে এখন ফসল ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা। দ্রুত আরেকটি গভীর নলকূপ স্থাপনের দাবিতে রোববার মানববন্ধন করেছেন তারা।

 রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নূরজাহনপুর গ্রামের ৩৫ থেকে ৪০ জন কৃষক অংশ নেন।

 কৃষকদের অভিযোগ, ঘোড়াঘাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নূরজাহনপুর গ্রামের প্রায় ১২৫ একর জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য একটি মাত্র গভীর নলকূপ রয়েছে। এর অধিকাংশ জমি উঁচু হওয়ায় একবার সেচ দেওয়ার পর পানি বেশিদিন ধরে রাখা যায় না।

 ফলে সেচের পানি পেতে কৃষকদের সিরিয়ালে দাঁড়াতে হচ্ছে। একবার সেচ দেওয়ার পর পরবর্তী সেচের জন্য অনেককে ১০ থেকে ১৫ দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে ধানের প্রয়োজনীয় সময়ে জমিতে পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

 কৃষকরা জানান, প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে আমনের চারা রোপণ করা হয়েছে। বর্তমানে ধানের কুশি গজানো ও দ্রুত বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ সময়। কিন্তু পর্যাপ্ত আর্দ্রতা না থাকায় আনুমানিক ১৫০ বিঘা জমির ধানের গোড়া শুকিয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও মাটিতে ফাটলও দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

 মানববন্ধনে কৃষক সামছুল বলেন, ‘১২৫ একর জমির জন্য এখানে মাত্র একটি নলকূপ বসানো হয়েছে। এই একটি নলকূপ দিয়ে সবাইকে সময়মতো পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কেউ পানি পাচ্ছেন, আবার কেউ পাচ্ছেন না। পানির অভাবে জমিতে ফাটল ধরেছে।’

 তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বিঘাপ্রতি বীজ, সার ও কীটনাশক বাবদ ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আরও ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ হবে। এর সঙ্গে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের খরচও রয়েছে। সময়মতো পানি দিতে না পারলে এই বিনিয়োগ লোকসানে পরিণত হবে।’

 কৃষক সুরুজ মিয়া বলেন, ‘৩৩ শতকে ২৫ বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করি। এই জমির ফসল দিয়েই সারা বছরের সংসার চলে। দ্রুত আরেকটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা না হলে ধানের ফলন নিয়ে বড় ধরনের বিপদে পড়তে হবে।’

 তিনি বলেন, ‘জমির দূরত্ব ও কৃষকদের প্রয়োজন বিবেচনা করে দ্রুত এখানে আরেকটি নলকূপ স্থাপন করা দরকার।’

 এ বিষয়ে বিএডিসির উপসহকারী প্রকৌশলী ও উপজেলা সেচ কমিটির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান সুজন বলেন, ‘নূরজাহনপুরের বিষয়টি আমরা জানি ও অবগত আছি। বিষয়টি আবার সুবিবেচনাপূর্বক পুনরায় তদন্ত করে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হব।’

ঘোড়াঘাট উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি ও ইউএনও রুবানা তানজিন বলেন, ‘সেচের একটি নীতিমালা আছে। নীতিমালার বাইরে কিছুই করার সুযোগ নেই।’

তিনি বলেন, ‘নীতিমালার মধ্যে থাকলে আমরা লাইসেন্স দিয়ে থাকি। কেউ নীতিমালা অনুযায়ী আবেদন করলে অবশ্যই লাইসেন্স পেয়ে যাবেন।’

কৃষকদের দাবি, প্রতিবছরই সেচের পানির সংকটে পড়তে হয় তাদের। তাই সাময়িকভাবে পানি সরবরাহের পরিবর্তে জমির পরিমাণ ও কৃষকদের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী সেচব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

মানববন্ধন থেকে দ্রুত আরেকটি গভীর নলকূপ স্থাপন, বিদ্যমান সেচব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো এবং আমন মৌসুমে সময়মতো সেচের পানি নিশ্চিত করার দাবি জানান কৃষকরা।