দিনাজপুরের বিরামপুরে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে সংগ্রাম, গৌরব ও ঐতিহ্যের বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন এমপি\\'র হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন বিরামপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও উপজেলার ৭ নং পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান ফিজুল। এর আগে তিনি ৩১ আগষ্ট দিনাজপুর জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক সমস্যা দেখিয়ে স্বেচ্ছায় দলটি (জাতীয় পার্টি) থেকে পদত্যাগ করতে পত্র দিলে জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আহম্মেদ শফী রুবেল ও সদস্য সচিব এ্যাড জুলফিকার হোসেন স্বাক্ষরিত পদত্যাগ পত্রটি গ্রহণ করেন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর)দুপুরের পরে বিরামপুর পৌর বিএনপির আয়োজনে শহরের পল্লবী মোড়ে বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন এমপি\\'র হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন। এ সময় মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন তাঁকে বরণ করে নেন এবং হ্যান্ডশীফ করে কুশল বিনিময় করেন।
বিএনপিতে যোগদানকারী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজুল মুঠোফোনে বলেন, আমি দীর্ঘদিন থেকে বিরামপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করে এসেছি। গত ১৯৯৭- ৯৮ সালে আমি প্রথম পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রহমত আলী। এর পরের নির্বাচনে আমি পরাজিত হই আর রহমত আলী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। দীর্ঘ পাঁচ বছর পরে আবারও নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে আমি জয়লাভ করি। আর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলো রহমত আলী। এখন ও আমরা দুই জন ছাড়া পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী কেউ হয় নাই। এরপর আমাদের দিনাজপুর-৬ আসনে শিবলী সাদিক সংসদ সদস্য হওয়ার পরে যতবার নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছি। জয়লাভ এর বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী থাকলেও শেষ ভোটের বাক্স বিরামপুর নিয়ে গিয়ে রহমত আলীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন থেকে আমার পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়ন উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত আছে।উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি।
তিনি আরও জানান, আমার যতদূর মনে আছে ২০২২ সালে আমাদের বিরামপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মোঃ মোশাররফ হোসেন অসুস্থ হয়ে পরলে। আমরা ঢাকায় জাতীয় পার্টির দলীয় কার্যালয়ে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের মহোদয়ের সভাপতিত্বে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আমাকে বিরামপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি হিসাবে ঘোষণা দেওয়া হয় এবং দ্বায়িত্ব পালনের আহবান করা হয়।
সাবেক সংসদ সদস্য বিরামপুর উপজেলা সহ পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়নকে শোষণ করেছে। এখন সময় এসেছে বিরামপুর উপজেলা সহ পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়নের প্রকৃত উন্নয়ন বুঝে নেওয়ার। তাই আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ বুকে ধারণ করে আজ বিএনপিতে যোগদান করলাম। বর্তমান সরকারের সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন এমপি জানান, আজকে যিনি বিএনপিতে যোগদান করলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত শুধু নয় উপজেলার নেতৃত্ব দিয়েছেন। আজ তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দল বিএনপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এবং বিরামপুর উপজেলা সহ তাঁর ইউনিয়নের উন্নয়নের স্বার্থে বিএনপির সঙ্গে থাকার দৃঢ় প্রত্যয়ে যোগদান করলেন। আমি তাকে স্বাগত জানায়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বিরামপুর পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে দিনাজপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন তোসা, কমর সেলিম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মিঞা শফিকুল ইসলাম মামুন, সহ-সভাপতি দবিরুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুন্জুর ইলাহী চৌধুরী রুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রেজাউল করিম রেজু সহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি সহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী বৃন্দ।
মতামত