হাকিমপুর

হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ব্যবসা করতে চান না ভারতীয় ব্যবসায়ীরা,বন্ধ আমদানি-রপ্তানি

প্রিন্ট
হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ব্যবসা করতে চান না ভারতীয় ব্যবসায়ীরা,বন্ধ আমদানি-রপ্তানি

প্রকাশিত : ৩০ আগস্ট ২০২৬, রাত ১১:২৮


পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরে তুলনায় বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থাকার অভিযোগে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আজ ৩০ আগস্ট রবিবার থেকে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সব ধরনের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ভারতের হিলি এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন। 

গত শনিবার ২৯ আগস্ট সংগঠনটির সম্পাদক বিকাশ চন্দ্র মন্ডলের স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশের হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ভারতীয় সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটি ও আমদানি-রপ্তানিকারক সদস্যদের যৌথ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আমদানি-রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের সঙ্গে বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় হিলি স্থলবন্দর বিভিন্ন কারণে পিছিয়ে পড়ছে। এর প্রতিবাদে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

আজ রবিবার (৩০ আগস্ট) সকালে বাংলাহিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর ইসলাম শাহীন মন্ডল বলেন, ভারতীয় হিলি এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের কাছ থেকে তারা একটি চিঠি পেয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের তুলনায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন বৈষম্য রয়েছে বলে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করেই তারা আজ ৩০ আগস্ট রবিবার থেকে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক এস এম রেজা বিপুল বলেন, হঠাৎ করে ভারতীয় এক্সপোর্টার্স ও সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে আমদানি-রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের আমদানিকারকরা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। ভারতের ওপারে ট্রাকবোঝাই পচনশীল পণ্য আটকে রয়েছে। এসব পণ্য সময় মতো দেশে প্রবেশ করতে না পারলে আমদানি কারকদের বড় ধরনের লোকসান হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত শত শত শ্রমিক এ সিদ্ধান্তের কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে গম সহ নিয়মিত আমদানি হওয়া বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে।এতে স্থানীয় বাজারেও পণ্যের দাম ও সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

হিলি বন্দরের আমদানি রফতানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাজমুল হোসেন বলেন, এমনিতেই হিলি স্থলবন্দরে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। আগে যেখানে ২৫০- ৩০০ ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করতো। সেখানে শনিবার ২৯ আগষ্ট দিন শেষে ৩৩ টি পণ্যবাহী ট্রাক দেশে প্রবেশ করেছে। 

ভারতীয় সংগঠনটি যৌথ বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার কথা উল্লেখ করে তাদের সিদ্ধান্ত মেনে চলার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।