দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে সাড়া জাগিয়েছে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি,বেড়েছে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)এর যৌথ উদ্যোগে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ১৩ হাজার ১০৭ জন ছাত্র-ছাত্রী মাঝে পরিচালিত হচ্ছে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি। এতে করে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পড়া হ্রাস, দৈনিক পুষ্টি ও প্রোটিনের চাহিদা পূরণসহ বিদ্যালয় গুলোতে উপস্থিতি বেড়েছে। এর ফলে খাদ্য সামগ্রী পেয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে আনন্দ ও উৎফুল্ল পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে ।
অন্যদিকে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন ঘটেছে।
উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে এই কর্মসূচি বিষয়ে ঘুরে দেখে পশ্চিম সাদীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বীরেন্দ্রনাথ তার প্রতিক্রিয়ায় জানায়,এই কর্মসূচি আরো আগে থেকে চালু হওয়া প্রয়োজন ছিল। কেননা এই কর্মসূচি চালু হওয়ায় পর থেকে আগের তুলনায় শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার বেড়েছে।
শিক্ষার্থীদের কয়েকজন অভিভাবক জানায়, সরকারের এই গৃহীত পদক্ষেপ গ্রহণ করায় আমাদের ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।তারা সরকারের প্রতি ও কৃতজ্ঞতা ও সাধুবাদ জানায়।
কাহারোল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এম কে এ জিন্নাত আলী জানায়, সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এবং ইকো সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইউএসডিও)এর বাস্তবায়নে গত ২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে অত্র উপজেলায় এই কার্যক্রম চালু হয়।এই কার্যক্রমের আওতায় উপজেলা ৬টি ইউনিয়নে ১২১ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৩ হাজার ১০৭ জন শিক্ষার্থী প্রতিদিন বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে রুটিন মোতাবেক খাদ্য হিসাবে বন রুটি,ডিম, দুধ,কলা বিস্কুট পেয়ে থাকেন। এই উপজেলায় ৫৩টি স্কুল মাদার প্রত্যহ ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে খাদ্য সরবরাহ করে আসছেন। এই কর্মসূচি চালু হওয়ার পর দিন দিন বিদ্যালয় গুলোতে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি তাদের পুষ্টিগত মানও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন(ইএসডিও)এর উপজেলা কো-অর্ডিনেটর উত্তম কুমারকে কিছু প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এই কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে খাদ্য সামগ্রী সরবরাহের ক্ষেত্রে কোন ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম কেউ যেন করতে না পারে সে বিষয়টির দিকে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
মতামত