ঘোড়াঘাট

ঘোড়াঘাটে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান মামলার চার্জশিট প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

প্রিন্ট
ঘোড়াঘাটে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান মামলার চার্জশিট প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

প্রকাশিত : ২৩ জুলাই ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৩৯ আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৪০


দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় দায়ের হওয়া একটি মামলার চার্জশিটকে ‘মনগড়া’ দাবি করে তা প্রত্যাহার এবং প্রকৃত আসামিদের অন্তর্ভুক্ত করে পুনঃতদন্তের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে পৌর বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে ঘোড়াঘাট থানার সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে ঘোড়াঘাট পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার মিলন অভিযোগ করেন, মামলার তদন্তে প্রকৃত অভিযুক্তদের বাদ দিয়ে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। তিনি চার্জশিট বাতিল করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তদন্ত প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে। একই সঙ্গে চার্জশিট দাখিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং ঘোড়াঘাট-হাকিমপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তেরও দাবি জানান।

আব্দুস সাত্তার মিলন বলেন, নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা তাদের উদ্দেশ্য নয়; বরং প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনাই তাদের দাবি। তিনি অভিযোগ করেন, “৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার বিনিময়ে” আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকে চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।জনগণের স্বার্থে আপনারা যারা দায়িত্ব পালন করছেন, এজন্য আপনারা অবশ্যই প্রশংসা পাবেন। আমাদের অভিযোগ হচ্ছে যারা এই অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত তাদের বিরুদ্ধে। 

মানববন্ধন থেকে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি মামলাটি আদালতে যাওয়ার আগে বর্তমান চার্জশিট প্রত্যাহার করে পুনঃতদন্তের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।


এ সময় মাদক নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, আওয়ামী রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়, ঘুষ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও তোলা হয়। ওসির বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, গরু চুরি বৃদ্ধি, মাদক কারবারিদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া এবং আটক ব্যক্তিদের অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়।

এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট-হাকিমপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আ. ন. ম. নিয়ামত উল্লাহ বলেন, একটি মামলার চার্জশিট নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত শেষে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।

তিনি বলেন, পুলিশের দাখিল করা প্রতিবেদনের বিষয়ে কারও আপত্তি থাকলে আইন অনুযায়ী আদালতে নারাজি আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজন হলে পুনঃতদন্তের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। অর্থ লেনদেনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। তবে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করবে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ঘোড়াঘাট পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেন, পৌর যুবদলের সদস্যসচিব সজীব কবির, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রেজবি আহমেদ রকি, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম রাব্বানীসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।



 করবে।