দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে রাহেনুল নামে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে পুকুরপাড়ে আটকে রেখে হাত-পা বেঁধে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে পাঁচজনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় কিশোরের বাবা কলিম উদ্দিন শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে নবাবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযুক্তরা হলেন উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নের মাছুয়াপাড়া গ্রামের মৃত সবুর মেম্বারের ছেলে টুটুল ইসলাম (৩২), বুলুর ছেলে তুহিন ইসলাম (১৮), সৈনিকপাড়া গ্রামের কবিরুল ইসলামের ছেলে আরাফাত (২০), জিয়ারুল ইসলামের ছেলে রাশেদুল ইসলাম (২৫) ও মুক্তার আলীর ছেলে আপেল (২৫)।
ভুক্তভোগী রাহেনুল ইসলাম অভিযোগকারী কলিম উদ্দিনের ছেলে এবং মধ্য খালিপপুর আকালীবাড়ী স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ অক্টোবর স্থানীয় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে রাহেনুলের সঙ্গে তার এক বান্ধবীর দেখা হয়। সেখানে বান্ধবী নুসরাত তার ছবি তুলে দিতে বলে এবং পরে ছবিগুলো সিহাব নামে এক ছেলের কাছে পাঠাতে অনুরোধ করে। রাহেনুল ছবিগুলো পাঠিয়ে দিলে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
এরই বিরোধের জেরে ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে একটি ঘটনার প্রমাণ দেখানোর কথা বলে অভিযুক্তরা রাহেনুলকে বাড়ি থেকে ডেকে কুশদহ ইউনিয়নের মল্লাই পুকুরপাড়ে নিয়ে যায়। একই রাতে গোলাম রব্বানীর ছেলে পারভেজকেও সেখানে ডেকে নেওয়া হয়।
সেখানে অভিযুক্ত পাঁচজন মিলে দুই কিশোরের হাত-পা বেঁধে মুখে গেঞ্জি গুঁজে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাদের গলায় পা দিয়ে চেপে ধরা, স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত এবং কচুরিপানার পানিতে চুবিয়ে নির্যাতন করা হয়। এতে রাহেনুল জ্ঞান হারিয়ে ফেলে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্তরা রাহেনুলকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন। কলিম উদ্দিন তার ছেলেকে নির্যাতনের কেন করা হয়েছে জানতে চাইলে অভিযুক্তরা তাকেও মারধর করেন ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত,এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস জানান, রাহেনুল নামে এক কিশোরকে মারধর ও বেঁধে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মতামত