সারাদেশ

বীরগঞ্জে আদিবাসীদের ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির মিলনমেলায় মানুষের ঢল

প্রিন্ট
বীরগঞ্জে আদিবাসীদের ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির মিলনমেলায় মানুষের ঢল

প্রকাশিত : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১০:৪২


‘বউ মেলা’ নয়, আদিবাসীদের ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির মিলনমেলা দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার গোলাপগঞ্জে প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী আদিবাসী মেলায় মানুষের ঢল নেমেছে। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পুনর্মিলন, আনন্দ ভাগাভাগি আর নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য উদ্‌যাপনে হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর-২০২৬) বিকেলে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার নিজপাড়া, মোহনপুর ও মরিচা ইউনিয়নের মধ্যবর্তী গোলাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে

উপজেলা আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সমিতির আয়োজনে দিনব্যাপী এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব অনুষ্ঠানে উপজেলা আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সমিতির আহবায়ক জোসেফ হেমরম এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমা খাতুন,জেলা বিএনপির উপদেষ্টা রেজওয়ানুল ইসলাম রিজু,পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মো.আমিনুল বাহার,দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনের সংসদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলাম ভাই, মোঃ সানাউল ইসলাম বিপ্লব,নিজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আনিসুর রহমান আনিস, মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শাহিনুর রহমান চৌধুরী শাহিন, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ,

পৌর যুবদলে আহব্বায়ক আরিফ মাসুম পল্লব, উপজেলা ছাত্রদলের আহব্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী আকাশসহ প্রমুখ। 

প্রায় দুইশত বছরের ঐতিহ্যবাহী আদিবাসী মেলায় সকাল থেকেই উৎসবের টানে দিনাজপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা এবং দূর-দূরান্ত থেকে সাঁওতাল, ওরাঁও, মুন্ডা, মালো, মাহাতো ও পাহানসহ সমতলের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর হাজার হাজার নারী-পুরুষ মেলা প্রাঙ্গণে সমবেত হতে শুরু করেন। 

শুধু ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীই নয়, তাদের এই আনন্দ-উৎসবে শামিল হতে হিন্দু-মুসলিমসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষও ছুটে আসেন।

আদিবাসী নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের শ্যামলী মুর্মু বলেন, এ মেলায় ছেলে-মেয়েদের পছন্দের ভিত্তিতে বিয়ে দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা হওয়া এবং একসঙ্গে আনন্দ উদ্‌যাপন করাই এ আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেলাটিকে যেভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, তা বাস্তব চিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। 

নীলফামারী জেলা থেকে মেলায় আসা জাকারিয়া পিন্টু জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেলা সম্পর্কে ভিন্ন ধরনের তথ্য জেনে তিনি এখানে এসেছিলেন। সরেজমিনে এসে দেখেছেন, এটি মূলত আদিবাসী সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক মিলনমেলা। জীবনসঙ্গী খোঁজার নামে প্রচারিত কোনো আয়োজন তাঁর চোখে পড়েনি।

  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমা খাতুন বলেন, প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো এ মেলা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও সাংস্কৃতিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। তাঁদের নিজস্ব ভাষা, নাচ, গান ও সংস্কৃতি সবার সামনে তুলে ধরতেই প্রতিবছর এ আয়োজন করা হয়। তিনি আরও বলেন, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির বন্ধনে আয়োজিত গোলাপগঞ্জের এ মেলা স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের কাছে কেবল বার্ষিক উৎসব নয়, নিজেদের শেকড়ের সঙ্গে সংযোগ রক্ষারও গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। তাই বিভ্রান্তিকর প্রচারের পরিবর্তে মেলার প্রকৃত পরিচয় তুলে ধরা এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।