দিনাজপুরের বীরগঞ্জে নানা আয়োজনে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বেলা ১১টায় বীরগঞ্জ পাইলট সরকারি
উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ মহড়া এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর দিবসটির জাতীয় প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয় ঘর থেকে শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আহসান হাবীব সরকারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমা খাতুন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমা খাতুন বলেন, যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, মাঠপর্যায়ের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং সর্বস্তরের জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগ ও ব্যক্তিগত সচেতনতার মাধ্যমে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক করণীয় সম্পর্কে ধারণা দিতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল মাঠে বাস্তবধর্মী মহড়া প্রদর্শন করে।
মহড়ায় ভূমিকম্পে ভবনে আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার, সাধারণ অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ, বাসাবাড়ির আগুন নেভানো, আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর কৌশল হাতে-কলমে তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে স্পর্শকাতর পেট্রোল পাম্পের অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ এবং বাসাবাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডারে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণের আধুনিক ও নিরাপদ কৌশল প্রদর্শন করেন উদ্ধারকর্মীরা।
মহড়ার মাধ্যমে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট যেকোনো দুর্যোগের সময় দ্রুত সাড়া দেওয়া, নিরাপদে উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনা এবং জানমালের ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার বাস্তব দিকগুলো উপস্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুলফিকার আলী শাহ, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফজলে ইবনে কাওছার আলী, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. আহাদ আলী মণ্ডল এবং উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জামিল উদ্দিন মণ্ডল।
এছাড়াও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা নয়ন চৌধুরী, সাংবাদিক নাজমুল ইসলাম মিলন, জাহিদ হাসান, মোজাম্মেল হক, আরিফ ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা কর্মসূচিতে অংশ নেন।
মতামত