বিরামপুর

বিরামপুরে কৃষিকে আধুনিক ও বাণিজ্যিকীকরণের লক্ষ্যে অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত

প্রিন্ট
বিরামপুরে কৃষিকে আধুনিক ও বাণিজ্যিকীকরণের লক্ষ্যে অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত : ১১ জুন ২০২৬, বিকাল ৫:৪৬


“কৃষিই সমৃদ্ধি” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিরামপুরে উপজেলা অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিরামপুর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ আবুল কালাম আজাদ, অতিরিক্ত পরিচালক ও প্রকল্পের উপ-পরিচালক, দিনাজপুর অঞ্চল। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষিবিদ মসিউর রহমান, মনিটরিং ও মূল্যায়ন কর্মকর্তা, দিনাজপুর অঞ্চলের টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. তানজিনা খাতুন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন,বিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজিয়া নওরিন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কমল কৃষ্ণ রায়, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আক্তারুজ্জামান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শমসের আলী মন্ডল, একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুস সালাম, সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এএইচএম তৌহিদুল্লাহ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রোকনুজ্জামানসহ উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

কর্মশালায় জানানো হয়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) বাস্তবায়নে পরিচালিত “দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার ২৩টি উপজেলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭৫ কোটি ৮ লাখ টাকা।

প্রকল্পের মূল লক্ষ্য আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধি, উচ্চমূল্যের ফসলের উৎপাদন ও জমির উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন, ফসল সংগ্রহোত্তর ক্ষতি কমানো এবং কৃষিকে আরও লাভজনক ও বাণিজ্যিক পর্যায়ে উন্নীত করা। একই সঙ্গে নারী ও তরুণদের সম্পৃক্ত করে ১ হাজার ৪৪০ জন কৃষি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় কৃষক প্রশিক্ষণ, কৃষি উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ, মাঠ দিবস, কৃষি প্রযুক্তি মেলা, উদ্বুদ্ধকরণ ভ্রমণ, মাটির স্বাস্থ্য সংরক্ষণ কার্যক্রম এবং বিভিন্ন ফসলের প্রযুক্তি প্রদর্শনী বাস্তবায়ন করা হবে। সুগন্ধি ধান, গম, হাইব্রিড ভুট্টা, সরিষা, চিনাবাদাম, নিরাপদ সবজি, ড্রাগন ফল, আম, পেঁপে, মিশ্র ফল বাগান, জৈব কৃষি, বস্তায় সবজি চাষ এবং মালচিং প্রযুক্তিসহ আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কার্যক্রম প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বক্তারা বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, কৃষকের আয় বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং কৃষি খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও সম্প্রসারিত হবে। পাশাপাশি জৈব সার ও জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধি, মাটির স্বাস্থ্য সংরক্ষণ, ফসলের সংগ্রহোত্তর ক্ষতি হ্রাস এবং রপ্তানিযোগ্য নিরাপদ ফল ও সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত উদ্যোগ ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে দিনাজপুর অঞ্চলের কৃষিতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের জীবনমানেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।