পার্বতীপুর

প্রথম বারের মতো চাঁদাবাজী ছাড়াই উপজেলা বিজয় দিবসের আয়োজন

প্রিন্ট
প্রথম বারের মতো চাঁদাবাজী ছাড়াই উপজেলা বিজয় দিবসের আয়োজন

প্রকাশিত : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, বিকাল ৪:১১ আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, বিকাল ৪:৩৬


দেশব্যাপি মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সারাদেশে যখন প্রশাসনের চাঁদাবাজী অভিযোগ ঠিক তখনই ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে। এবারে প্রথম বারের মতো কোন প্রকার

চাঁদাবাজী ছাড়াই নিজ অর্থায়নে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। যা ইতিমধ্যে এলাকায় বেশ ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

জানা গেছে, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিবছর পৌর স্টেডিয়াম মাঠে কুচকাওয়াজসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ছাড়াও সংশ্লিষ্টরা অংশগ্রহন করেন। আর এ আয়োজনকে ঘিরে প্রতিবছর ব্যাপক হারে নিরবে চাঁদাবাজীর মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা সংগ্রহ করে আসছিলো পার্বতীপুর উপজেলা প্রশাসন। চাঁদা নেয়া প্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যে বিভিন্ন ইট ভাটা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান, এনজিও ছাড়াও সরকারি, বে-সরকারী দপ্তর অন্যতম।

সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি চাঁদার কিছু অংশ অনুষ্ঠানের খরচ দেখানো হলেও দীর্ঘ কয়েক দশক যাবৎ উত্তোলনকৃত চাঁদার সিংহভাগই পকেটস্ত করতেন দায়িত্ব প্রাপ্তরা। তবে, এবারে প্রথম বারের মতো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেনের নির্দেশে কোন প্রকার চাঁদাবাজী ছাড়াই নিজ অর্থায়নে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। 

সাদ্দাম হোসেন গত ৫ ই মার্চ পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগাদনের পর থেকেই তিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি বিসিএস ৩৬ ব্যাচের বলে জানা গেছে। এর আগে দীর্ঘদিন তিনি রাজশাহী বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক ইট ভাটা মালিক জানান, প্রতিবছর বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনকে ভাটা প্রতি ১০থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হতো। তবে, এবারে ইউএনও সাদ্দাম হোসেন স্যার যোগদানের পর থেকেই কোন দিবস উপলক্ষে একটি টাকাও চাঁদা দিতে হয়নি। 

উপজেলার একাধিক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, আগে এসব দিবসের চিঠি বিলি করার সাথে সাথে চাঁদার টাকা সংগ্রহ করা হতো। সাদ্দাম স্যারের যোগদানের পর থেকে দীর্ঘদিনের এ প্রথা বন্ধ হয়েছে।

পাবতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেননের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি চাঁদাবাজী ছাড়াই বিজয় দিবস উদযাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সেই সাথে বলেন, আগে কি হয়েছিলো জানি না তবে, আমি এ উপজেলার দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকেই সরকারি বাজেট অনুযায়ী বিভিন্ন সরকারি দিবস উদযাপন করেছি। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন তিনি।