দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার রাঙ্গামাটি সার্বজনীন বোল্লোকালী মন্দির প্রাঙ্গণে শনিবার (৮ নভেম্বর) সকালে বলি প্রদানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ১০ দিনব্যাপী বোল্লোকালী পূজা ও বৌ–মেলা। রাঙ্গামাটি সার্বজনীন বোল্লোকালী মন্দির কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মেলাটি স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয়–সাংস্কৃতিক মিলনমেলা হিসেবে পরিচিত। এ বছর অনুষ্ঠানটির ১২৫তম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সাংসদ ও হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী। তিনি উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, “বোল্লোকালী পূজা কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়; এটি বহু বছরের ঐতিহ্য, যেখানে মানুষের আস্থা, সংস্কৃতি ও মিলন একসূত্রে গাঁথা। এই মেলা সামাজিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও সুসংহত করে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু–বৌদ্ধ–খ্রিস্টান কল্যাণ ট্রাস্টের রংপুর জেলার সভাপতি বাবু উত্তম কুমার সাহা, কালেক্টিভের বদরগঞ্জ পৌর শাখার সভাপতি শ্রী খোকন কুমার দাস, ফুলবাড়ী থানার ওসি একেএম খন্দকার মহিব্বুল, রংপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের শ্রী সোমা চক্রবর্তী, বদরগঞ্জ উপজেলা কল্যাণ ট্রাস্টের সভাপতি বাবু ধনী কুমার কুণ্ড এবং বাংলাদেশ ব্রাহ্মণ সংসদ ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার যুব–কিশোর সভাপতি প্রবীর গাঙ্গুলি।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ফুলবাড়ী উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক আনন্দ কুমার গুপ্ত। সার্বিক সঞ্চালনায় ছিলেন রাঙ্গামাটি সার্বজনীন বোল্লোকালী মন্দির কমিটির সভাপতি উজ্জ্বল কুমার রায় ও সুমিত শীল।
উদ্বোধনী দিন সকাল থেকেই মন্দির প্রাঙ্গণ ছিল উৎসবমুখর। আশপাশের গ্রাম থেকে ছোট–বড় বহু মানুষ মেলামাঠে ভিড় করেন। শিশুরা খেলনা আর রঙিন সামগ্রীর স্টলে ভিড় করলেও বড়রা ব্যস্ত ছিলেন পূজার্চনা ও আরাধনায়। ধর্মীয় রীতিতে ছাগল বলির মধ্য দিয়ে শুরু হয় পূজা। এরপর চলে ভক্তিগান ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন।
মেলার আয়োজকরা জানান, আগামী ১০ দিনব্যাপী পূজাচর্চা, ভক্তদের জন্য প্রসাদ বিতরণ, দৈনিক আরতি, সিন্ধুর দান, ধর্মীয় আলোচনা, নাটক–আবৃত্তি, ঐতিহ্যবাহী বৌ–মেলা এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে।
পাশাপাশি স্থানীয় কারুপণ্য, খেলাধুলার স্টল, বিভিন্ন খাবারের দোকান এবং কৃষিজ পণ্যের ক্ষুদ্র প্রদর্শনীও মেলাকে আরও বর্ণিল করে তুলেছে।
সন্ধ্যার পর আলোকসজ্জা, ঢাক–ঢোলের তালে মন্দির এলাকা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। দর্শনার্থীরা জানান, প্রতিবছর বোল্লোকালী পূজা ও মেলাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় এক ধরনের উৎসবের আবহ তৈরি হয়।
মন্দির কমিটির নেতারা বলেন, পূজা ও মেলায় আগত ভক্তদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক দল দিন–রাত কাজ করছে যাতে দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারেন।
মতামত